ঠাকুরবাড়ির বালকেরা

ময়ূরী মিত্র সত্যেন্দ্রনাথ, জ্যোতিরিন্দ্রনাথ এবং রবীন্দ্রনাথ — ‘বালক’-এর জন্য লিখতে বসে তিন ভাইই সর্বকালীনত্বকে নিজেদের অমূল্য বাল্যে একবার খুঁজে পর্যন্ত দেখলেন না। বাল্য তাঁদের কাছে হয়ে থাকল কেবল বালককূলের। অথচ তিনজনেই কিন্তু পরবর্তীকালে নিজের নিজের বাল্যস্মৃতি নিয়ে বহুল পরিমাণে নাড়াচাড়া করেছেন। দেবেন্দ্রনাথ, রাজনারায়ণের সাহচর্যে এবং ঠাকুরবাড়ির সার্বিক স্বাদেশিকতায় জ্যোতিরিন্দ্র রবীন্দ্রের হাড়মাসে যে অন্তর্মুখী ও সংহত স্বাজাত্যবোধের সঞ্চার ঘটেছিল — ‘বালক’ পত্রিকায় সেসব প্রসঙ্গ না এনে … Continue reading ঠাকুরবাড়ির বালকেরা

ঠাকুরবাড়ির বালকেরা (৩য় পর্ব)

ময়ূরী মিত্র ‘বালক’ -এ ছাপা হলো কবির প্রিয় বান্ধব প্রিয়নাথ সেনের “স্নেহের পুতলি”। অথচ পুনর্মুদ্রিত হলো না কবির প্রিয়তম কবি বিহারীলাল চক্রবর্তীর একটি কবিতাও। অথচ কী মজার কথা দেখুন — এই বিহারীলাল চক্রবর্তী সম্পর্কেই কবি তাঁর জীবনস্মৃতিতে শোরগোল তুলেছেন। ছেলেবেলায় নিজের ওপর বিহারীলালের কবিতার প্রভাব সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ লিখছেন —তখনকার দিনের সকলকবিতার মধ্যে তাহাই আমারসবচেয়ে মন হরণ করিয়াছিল।তাঁহার সেই সব কবিতাসরল বাঁশির সুরে আমারমনের মধ্যে মাঠের … Continue reading ঠাকুরবাড়ির বালকেরা (৩য় পর্ব)

ঠাকুরবাড়ির বালকেরা (২য় পর্ব)

ময়ূরী মিত্র এবার দেখে নিই — বালক পত্রিকায় প্রাবন্ধিক রবীন্দ্রনাথের লেখাপত্রের ধারাপ্রকৃতি কেমন চেহারা নিচ্ছিল। রবীন্দ্রনাথ এখানে লিখছেন ‘রুদ্ধগৃহ’। ‘রুদ্ধগৃহ’ প্রবন্ধের বেশ কটি লাইন তুলে দিচ্ছি। একটু পড়ে দেখুন তো —এ জগতে অবিশ্রামজীবনের প্রবাহ মৃত্যুকেহু হু করিয়া ভাসাইয়া লইয়াযায়, মৃত্যু কোথাও টিকিয়াথাকিতে পারে না, এই ভয়েসমাধিভবন মৃত্যুকেপাথর-চাপা দিয়ারাখে, কৃপণ যেমন তাহারবহুমূল্য মানিকটি লোহারসিন্ধুকের মধ্যে বদ্ধ করিয়ারাখে, সমাধিভবন তেমনিমৃত্যুর কঙ্কালটিকে বহুমূল্যরত্নের মতো চোরের হাতহইতে রক্ষা করিবার … Continue reading ঠাকুরবাড়ির বালকেরা (২য় পর্ব)

ঠাকুরবাড়ির বালকেরা (১ম পর্ব)

ময়ূরী মিত্র কোঁদল বাঁধিয়েছিলেন তাঁরা জব্বর – ঠিক যেমন নিভু আঁচে পুরু হতে থাকে দুধের চাক। এপক্ষটি লিখলেন –ইংরাজরা স্বাস্থ্যের নিয়ম পালন করেন বলিয়াই বৃদ্ধ ইংরেজ পাকা আমটির মতো। বৃদ্ধ বাঙালি একটি শুষ্ক পত্র।কম যান না অন্যপক্ষটিও। লাঠিটি ঘুরিয়ে মারলেন। ‘লাঠির উপর লাঠি ‘ প্রবন্ধে তিনি লিখলেন –হি ইজ আপ – তিনি হন উপরে, আই গেট ডাউন – আমি যাই নীচে – ইহা মুখস্থ করিতে … Continue reading ঠাকুরবাড়ির বালকেরা (১ম পর্ব)

মুকুন্দ দাস ও বঙ্গদেশ

ময়ূরী মিত্র (শেষ পর্ব) তৃতীয় পর্বে একটি প্রশ্ন দিয়ে শেষ করেছিলাম — অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়েছিল বলেই কি কবি মুকুন্দ তাঁর ঝঞ্ঝা ঝটিকার পথ ছেড়ে আত্মস্থিত হচ্ছিলেন। এ প্রসঙ্গে বলি —নিজের শেষ দিকের লেখার ওপর অসহযোগ আন্দোলনের সরাসরি প্রভাব সম্পর্কে মুকুন্দদাসের কোনো স্পষ্ট স্বীকারোক্তি আমি অন্তত পাইনি। তবে কারামুক্ত হওয়ার পর থেকে মুকুন্দদাস যে ধরণের লেখা লিখতে শুরু করেন তাতে বেশ বোঝা যাচ্ছে — চরমপন্থী … Continue reading মুকুন্দ দাস ও বঙ্গদেশ

মুকুন্দ দাস ও বঙ্গদেশ

ময়ূরী মিত্র পর্ব – তিন অতঃপর মুকুন্দদাস:অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা সংস্থাপনায় নাকি মধ্যপন্থায় আস্থাজ্ঞাপনে?প্রায় তিনবছর কারারুদ্ধ থেকে মুক্ত হলেন মুকুন্দদাস। ততদিনে বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদ আর কেবল উচ্চ মধ্যবিত্তের কর্তৃত্বাধীন নয় — নিম্নবর্গের হিন্দু ও দলিতরাও এ প্রসঙ্গে সমান সতেজ ও সরব। দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ-পরিস্থিতি, দেশবাসীর রাজনৈতিক নীতি ও কর্মপদ্ধতি এমনকী ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যবাদের উদ্দেশ্য ও কৌশলও অনেকখানিই পরিবর্তিত হয়ে গেছে। এইখানে একটা কথা বলে রাখা দরকার — সিপাহি … Continue reading মুকুন্দ দাস ও বঙ্গদেশ

ত্রিপুরা : ভোটে নেই মানিক, কংগ্রেসের সঙ্গে আসন রফা বামফ্রন্টের

দেরিতে হলেও ত্রিপুরার আসন্ন বিধানসবা ভোটে কংগ্রেস-বামফ্রন্ট আসন রফা হলো ২৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায়। বামফ্রন্ট এবার ৪৭টি আসনে লড়াই করবে। কংগ্রেস লড়বে ১৩টি আসনে। উল্লেখযোগ্য ঘটনা হল, এবার ভোটে লড়তে রাজি নয় রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সিপিআইএম পলিটব্যুরো সদস্য মানিক সরকার। তাঁকে বারবার বোঝানো হলেও তিনি রাজি হননি। রাজনৈতিক মহলের খবর, কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতার ইস্যুটা মানিকবাবুর পছন্দ ছিল না। তাই তিনি সরে দাঁড়ালেন। যদিও বামফ্রন্টের … Continue reading ত্রিপুরা : ভোটে নেই মানিক, কংগ্রেসের সঙ্গে আসন রফা বামফ্রন্টের

মুকুন্দ দাস ও বঙ্গদেশ

ময়ূরী মিত্র পর্ব – দুই গতপর্বেই ইঙ্গিত দিয়েছি— ভারতীয় জাতীয়তাবাদের আগামী উত্তরণের স্বার্থে জনসংযোগ, জনস্বার্থ ও সমস্বর প্রতিবাদের বিষয়টি ক্রমশ প্রয়োজনীয় হয়ে উঠছিল৷ চারণকবি যে এই প্রয়োজন সর্বার্থেই অনুভব করেছিলেন তা বোঝা যায় তাঁর এই সময়কার সবকটি লেখায়৷ সমাজের তথাকথিত নিম্নমানের পেশার মানুষদের প্রগাঢ় শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন মুকুন্দকবি৷ লিখলেন—ডেকে নে তাঁতী জোলাছাড়িয়ে নেংটি তিলক ঝোলাখুলে দে তাঁতের মেলাপ্রতি ঘর ঘরকামার কুমোর চামার মুচিতারাই কাজের, তারাই শুচিধর … Continue reading মুকুন্দ দাস ও বঙ্গদেশ

মুকুন্দ দাস ও বঙ্গদেশ

ময়ূরী মিত্র পর্ব – একবোঝাবুঝি নয় আর৷ ব্রিটিশের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ বঙ্গ তখন মেতেছে শাসককে সমঝে দেবার রাজনীতিতে ৷বাংলার জনমত গোষ্ঠীচেতনার প্রচলিত ঘেরাটোপ থেকে বেরিয়ে এসে দলমত নির্বিশেষে সরকারি সিদ্ধান্তগুলোর বিরুদ্ধাচারণ করতে শুরু করল৷ জাতীয়তাবাদী প্রেসের সমস্বরে প্রতিবাদের রসায়নে বাঙালির রাজনৈতিক প্রতিবাদের মঞ্চটাও এইসময়ে প্রসারিত হতে শুরু করল৷ গোষ্ঠীবদ্ধ রাজনীতির অনিবার্য সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে বাঙালি বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিবিদ, পত্রপত্রিকার সম্পাদক ,এমনকী অনেক সাধারণ মানুষও নেমে আসতে শুরু … Continue reading মুকুন্দ দাস ও বঙ্গদেশ

নাট্যশিল্পী বিনোদিনীকে নিয়ে আমার কথাস্বখাত সলিলে

ড. ময়ূরী মিত্র (শেষ পর্ব)একথা অস্বীকারের কোনো জো নেই- বিনোদিনীর সঙ্গে বা বিনোদিনীকে নিয়ে থিয়েটার করতে করতে গিরিশচন্দ্রই কিন্তু বিনোদিনীর ধাত সম্পর্কে সবার আগে অবগত হচ্ছিলেন৷ সম্ভবত গিরিশচন্দ্রের মতো নিবিড় আদরে এবং ঐকান্তিক মনোযোগে বিনোদিনীকে আর কেউ দেখেননি৷ দেখার সুযোগ বা কারণও ঘটেনি আর কারোর পক্ষে ৷ তাই এখানে যে তর্কটি বারবারই উঠে আসতে পারে তা হল— থিয়েটার থেকে বিনোদিনীর এই চলে যাওয়াটা কি কেবল … Continue reading নাট্যশিল্পী বিনোদিনীকে নিয়ে আমার কথাস্বখাত সলিলে