আসছে ২৬ জানুয়ারি রাজধানীতে প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে কোভিড বিধি নিয়ে কড়াকড়ি হবেই। সংক্রমণ যাতে ছড়িয়ে না পড়ে তার যথা সম্ভব ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। কুচকাওয়াজ দেখতে আসা দর্শকদের সংখ্যা সামাজিক দূরত্ব বিধি বজায় রাখতেই অনেক কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ২০১৯ থেকেই দর্শক কমানো যদিও চলছে। এবার সেটা আরও কড়াকড়ি হবে। ২০২০-তেও যেখানে ১ লক্ষ ২৫ হাজার মানুষ দর্শকাসনে জায়গায় পেতেন, সেটা ২০২১-এ কোভিড-এর জন্য কমে দাঁড়ায় মাত্র ২৫ হাজার। এবার সেটা আরও কমিয়ে ৫ থেকে ৮ হাজারের মধ্যে। তাছাড়া আগে স্কুল পড়ুয়াদের অনুষ্ঠানে আসার কোন বাধা ছিল না। এবার তাতেও কড়াকড়ি। ১৫ বছরের নীচে কেউ আসতে পারবে না। তাছাড়া ভ্যাক্সিনের ডবল ডোজ-এর সার্টিফিকেট সঙ্গে আনতে হবে এবং মাস্ক পড়তেই হবে। অনুষ্ঠানস্থলে ঢোকার মুখেই যথারীতি থার্মাল স্ক্রিনিং হবে, শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক ধরা পড়লে অনুষ্ঠানস্থলে ঢুকতেই দেওয়া হবে না। গেটের পাশেই আলাদা করে ‘কোভিড বুথ’ থাকছে। এরপরেও ১০ থেকে ১২টি এলসিডি স্ক্রিন লাগানো হচ্ছে, যাতে অনুষ্ঠানস্থলের প্রতিটি কোণায় কোণায় কি হচ্ছে তা পুরোটাই দেখা যাবে। এতো গেল ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই। কিন্তু এর চেয়েও বড় এক আতঙ্কের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছ প্রজাতন্ত্র দিবস পালনের মুহূর্তে। সেটি হল পাক মদতপুষ্ট এবং আফগানিস্তানের তালিবান মদতপুষ্ট জঙ্গিদের কিছু শাখা প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে হামলা চালাতে পারে। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা এমন একটি সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে। তাতে আরও বেশি কড়াকড়ি থাকবে এবার। এটাও জানা গেছে জঙ্গিদের টার্গেট স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাছাড়া অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদেরও তারা টার্গেট করতে পারে। জানা গেছে, সরকারিভাবে এমনই একটি গোয়েন্দা রিপোর্ট জমা পড়েছে। ওই রিপোর্টে পরিষ্কার জঙ্গি নাশকতার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। এই রিপোর্ট জমা পড়তেই দিল্লি জুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা শুরু হয়েছে। প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন কুচকাওয়াজ ছাড়াও ন্যাশনাল ওয়ার মিউজিয়ামে যাবার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে তিনি ৫ হাজার শহিদকে শ্রদ্ধা জানাবেন। দেশের ৭৫তম স্বাধীনতা দিবসের বর্ষ এবার। সেই উপলক্ষে দেশ জোড়া আজাদি কা অমৃত মহোৎসব পালন করবে কেন্দ্রীয় সরকার। তারও কিছু নমুনা প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে থাকবে। অর্থাৎ ২৬ জানুয়ারি সকাল থেকে অনেকটা সময় প্রধানমন্ত্রী দিল্লির রাজপথের অনুষ্ঠানে থাকবেন এবং অন্যান্য অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। তার এই দিল্লির রাজপথে সফরকালে কোন ভাবেই যাতে জঙ্গিদের পরিকল্পনার মধ্যে পড়ে কোনও অঘটন না ঘটে সেদিকে কড়া নজর রাখছে প্রশাসন। এবার প্যারেড শুরু হবে সকাল সাড়ে দশটায়। এতদিন সকাল ১০টায় অনুষ্ঠান শুরু হতো। কিন্তু এবার আবহাওয়া দফতরের কুয়াশার পূর্বাভাস পেয়ে তা ৩০ মিনিট পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রজাতন্ত্র দিবসের অনেক আগে থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন রাস্তা এবং দিল্লিতে ঢোকার মূল সড়কগুলিতে নাকা চেকিং শুরু হয়েছে। জঙ্গি নিশানায় যেহেতু দিল্লি-সহ গোটা দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দফতর, সৌধ, ধর্মস্থান, ঐতিহাসিক স্থান থাকতে পারে বলে গোয়েন্দা রিপোর্টে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, সেই মত সমস্ত রাজ্যকেই সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। খোদ দিল্লি শহরে বসেছে ৩০০টি সিসি ক্যামেরা। যাতে শহরের বিভিন্ন এলাকার জনজীবনের ওপর নজর রাখা যায়। সব মিলিয়ে করোনা ও জঙ্গি এই উভয় আতঙ্কের মধ্যেই এবারের প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠান পালন করার প্রস্তুতি চলছে।
