কল্যাণ-মদনের কড়া মন্তব্য দলীয় কোন্দলের হিমশৈলের চূড়ামাত্র নয় তো?

বেশ কিছুদিন ধরেই তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরে কে নেতা বা নেত্রী, এই নিয়ে আদি তৃণমূল নেতাদের অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে যারা বামফ্রন্ট আমলে লড়াই করে তৃণমূল কংগ্রেসের ঠান্ডা ধরেছিলেন তারা অনেকেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নেতা মানতে পারছেন না। সেই সঙ্গে দলের নীতি আদর্শকে কর্পোরেট ঢঙে চালানো নিয়েও তাদের ঘোর আপত্তি। এই বিশ্বাসের দুই নেতা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বর্তমান বিধায়ক মদন মিত্র ইদানীং যে সমালোচনার ঝড় বইয়ে দিয়েছেন, তাতে তৃণমূল কংগ্রেসে অস্বস্তি চরমে উঠেছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই কোভিড আবহে অন্তত ২ মাস সমস্ত রাজনৈতিক তথা ধর্মীয় কর্মসূচি বাতিলের পক্ষে সওয়াল করেছেন। তাতে তিনি বিরোধীদেরও সাধুবাদ পেয়েছেন। কিন্তু তাঁর দলেরই সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিষেকের বক্তব্য (যা তিনি ব্যক্তিগত বক্তব্য বলেছেন) দলের এক শীর্ষপদে থেকে ব্যক্তিগত হয় কি করে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আবার কল্যাণবাবু এও বলেন, নিজের এলাকায় ফুটবল খেলার আয়োজন করে বিরাট জনসমাগম করার পর হঠাৎ কোভিড আতঙ্কের কথা মানায় না।

এদিকে দলের বিধায়ক হলেও প্রায় কর্তৃত্বহীন একদা ডাকসাইটে মদন মিত্র তৃণমূল কংগ্রেসের বর্তমান মুখপাত্রদের আক্রমণ করে বলেছেন, কুণাল ঘোষ, ডেরেক ও’ব্রায়েন, উদয়ন গুহ, সিদ্দিকুলা— এরা কবে তৃণমূল করলো? কিন্তু এরাই এখন মুখপাত্র। ২০০৬-তে পূর্ণেন্দু বসু দোলা সেনরা পার্টিতে এসেছে। সিপিএম থেকে এসেছে ঋতব্রত ব্যানার্জি, এসেছে সায়নী ঘোষ। এরা সব পদ পেয়েছে, মুখপাত্র হয়েছে। কোন দিন এবার দেখবো অর্জুন সিংও টিএমসির মুখপাত্র হয়ে গেছে। মদন মিত্রের এহেন মন্তব্যের পরে এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে সমালোচনার পরে তৃণমূল কংগ্রেসের এই দুই পুরোনো নেতার বিরুদ্ধে নতুনদের অনেকে মুখ খুলেছে। তাতে দলের আভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা প্রশ্নের মুখে। বিতর্ক ধামাচাপা দিতে দলের মহা সচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় সবাইকে মুখ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছে, ধামাচাপা দিলেই যে বিতর্ক-সমালোচনা শুরু হলে সেটা ছাইচাপা আগুনের মত ধিকধিক জ্বলতেই থাকবে। ভবিষ্যতে আবারও এমন কাণ্ড ঘটা তাই বিচিত্র নয়।

Leave a comment