এক, দুই, তিন… এবং…। করোনার প্রথম ঢেউ ২০২০-তে সেপ্টেম্বর মা্সে ৯৭৮৬০ জন সংক্রামিত হয়। দ্বিতীয় ঢেউ-এ ২০২১-এর মে মাসে ৪১৪২৮০ জন সংক্রামিত হয়েছিল। এবার ২০২২-এর জানুয়ারিতেই করোনা যে দাপট দেখাচ্ছে তাতে আগামী মাসের যে কোন দিন এই হার ১৫ লাখ হয়ে যেতেই পারে। এমনই আশঙ্কার কথা শুনিয়েছি চিকিৎসক মহল। আরও বক্তব্য, প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউ-এর ক্ষেত্রে করোনার চরিত্র ছিল ডেল্টা, যার মারণ ক্ষমতা অনেক বেশি। সেই সময় অধিকাংশ দেশবাসীকে টিকাকরণের আওতায় আনা যায়নি। ফলে বহু প্রাণহানি ঘটেছে। সাম্প্রতিককালে করোনা চরিত্র বদলে ওমিক্রন পর্যবসিত হয়েছে, এর মারণ ক্ষমতা কম হলেও সংক্রমণ ক্ষমতা চর্তুগুণ। এবং ওমিক্রনের পাশে ডেল্টারও হদিস মিলেছে। ৭ জানুয়ারি এই প্রতিবেদন লেখার সময়ে সারা দেশের হিসেবটা হল গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ১১৭১০০ জন, ওমিক্রন মিলেছে ৩৭৭ জনের দেহে, মারা গেছেন ৩০২ জন, সেরে উঠেছেন ৩০৮৩৫ জন এবং মোট অ্যাক্টিভ রোগীর সংখ্যা ৩৭১৩৬৩ জন। রাজ্যের হিসেবটা হল এই একই সময়ে আক্রান্ত ১৮২১৩ জন। সেরে উঠেছেন ৭৯১২ জন। মারা গেছেন ১৮ জন। অ্যাক্টিভ রোগী ৫১,৩৮৪ জন। দেখা যাচ্ছে প্রাত্যহিক করোনা পরীক্ষায় রোগীর সংখ্যা গত ২৪ ঘণ্টায় ২৪.৭১ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ২৬.৩৪ শতাংশ। এ প্রসঙ্গে আরও একটা সতর্কবার্তা চিকিৎসক মহলের। সেটা হল এখন ওমিক্রন চলছে, ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট নয়, ডেল্টার ওমিক্রন প্রাণঘাতী নয়, তাই ভয় নেই— এই চিন্তা করা একেবারেই ঠিক হবে না। কারণ, করোনা এমনই এক ভাইরাস যেটা কখন যে কি ভোল বদল ঘটাবে তা অনিশ্চিত, ওমিক্রন থেকেই হয়তো আরও মারাত্মক কিছু ভ্যারিয়েন্ট জন্ম নিল তা খুব মারাত্মক, সেটা হতেই পারে। বড়দিনের আগে এবং কলকাতার ভোটপর্বের আগে যে ডাক্তারবাবুরা সতর্ক করেছিলেন, তারা এবার আবার বলেছেন, আরও ৪ দফার ভোট ও গঙ্গাসাগর মেলা— বহু মানুষের সমাগম শত চেষ্টাতেও রোখা সম্ভব হবে না। যার বিষময় ফল অদূর ভবিষ্যতে ভুগতে হতেই পারে।
