আবার কি লকডাউন পরিস্থিতি আসন্ন : করোনার ওমিক্রন সংক্রমণে তেমনই আশঙ্কার মেঘ

সুপ্রিয় হালদার

বর্ষবরণের মুহূর্তে ফের করোনা থাবা। ফের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন দাপট দেখাতে শুরু করেছে। রোজ রোজ বাড়ছে সংক্রমিতের সংখ্যা, বাড়ছে মৃত্যুর হার। দ্বিতীয় ঢেউ-এর পর যে আত্মতৃপ্তি দেখা গিয়েছিল, মাস্কহীন ঢিলেঢালা ব্যবস্থার ভীড় উপচে পড়া উৎসব-নির্বাচনি কর্মকাণ্ডে। এটা তারই অবশ্যম্ভাবী ফল। এমন ঘটনা দেখে শঙ্কিত রাজ্য প্রশাসন ফের লকডাউন বা তেমনই কড়াকড়ির পথে হাঁটতে চাইছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। কড়া বিধিনিষেধের কথা শুনিয়েছেন স্বয়ং মুখমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী সপ্তাহ থেকে কলকাতার বিভিন্ন এলাকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনে এক বা একাধিক কনটেনমেন্ট জোন চালু হতে পারে। আবার কর্মক্ষেত্রে হাজিরার সংখ্যা কমানো হতে পারে। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ফের কাজ বন্ধ করে আগের মত অনলাইন পঠন-পাঠন শুরু হতে পারে। ট্রেন-বাস-মেট্রো-বিমান চলাচলে লাগাম পরানো হতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী ২৯ ডিসেম্বর দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার প্রশাসনিক বৈঠকে বলেছেন, ওমিক্রন দ্রুত ছড়ায়। তাই আমাদের সতর্ক থাকতেদ হবে। ১ এবং ২ জানুয়ারি নানা রকম অনুষ্ঠান আছে। তারপরে বিষয়টি নিয়ে ৩ জানুয়ারি থেকে পর্যালোচনা বৈঠক হবে। কাজের জায়গায় কর্মী সংখ্যা আবার ৫০ শতাংশে নামিয়ে আনার কথাও ভাবতে হবে। প্রসঙ্গত, বড়দিনের আগের দিন ২৪ ডিসেম্বর রাজ্যে সংক্রমিত হন ৫৫০ জন, পরদিন ২৫ ডিসেম্বর সেটা বেড়ে হয় ৫৫২, ২৬ ডিসেম্বর হয় ৫৪৪ জন, ২৭ ডিসেম্বর একটু কমে হয় ৪৩৯ জন, ২৮ ডিসেম্বর আবার বেড়ে হয় ৭৪২ জন, ২৯ ডিসেম্বর সংখ্যাটা হাজার ছাড়য়ে যায়, ১০৮৯ জন, ৩০ ডিসেম্বর আতঙ্ক ছড়িয়ে আগের দিনের দ্বিগুণ হয়ে ২০০০ ছাড়িয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে ২২ জানুয়ারি ৪ পুরসভার ভোট হবে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

Leave a comment