পুরোনো ইংরাজি বছরের শেষ প্রকাশনায় নতুন বছর ২০২২-এর শুভেচ্ছা, ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, প্রীতি জানিয়ে ‘প্রতিফলন’ সংবাদ সাপ্তাহিকের সমস্ত পাঠক-পাঠিকা, সংবাদ ও তথ্য পরিবেশক, সংবাদপত্র বিক্রেতা, বিজ্ঞাপনদাতা-সহ অগণিত শুভানুধ্যায়ীকে আমাদের আন্তরিক অভিবাদন জানাই। সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, আনন্দে থাকুন। নতুন বছর যেন নতুন আশার আলো নিয়ে আমাদের সবার সামনে উদয় হয়। রোগ-বালাই-মৃত্যুভয় দূরে যাক। সমৃদ্ধতর হোক বঙ্গভূমি তথা স্বদেশ ভূমি। আমাদের সবাইকেই অতি সাবধানে থাকতে হবে। গত ২ বছর ধরে যা চলছে, তারপরে ডেল্টা ছাড়িয়ে এখন ওমিক্রন এসেছে। সবে মানুষ ভাবছিল যে, যাক বাবা করোনা বিদায় হয়েছে, কি আনন্দ আকাশে-বাতাসে। ব্যাস শুরু হয়ে গেল গণতন্ত্রের ভোটপুজো, ভোটের প্রচার পুজো, বড়দিন তাই পার্কস্ট্রিট যেতেই হবে, সাহেবপাড়া দর্শন, সেখানে ভীড়ে ভীড়। নিউ মার্কেটে কেকপুজো, টুপি, বাঁশি, সান্টার দাড়ি কিনতে আর এক দফা ভীড়। এই ভীড়ের ভেলায় ভাসতে ভাসতে বড়দিনটা সবে পেরিয়েছে, নতুন বছর আসতে এখনও ক-দিন বাকি, মাস্ক পরাটা ছেড়ে ‘আমি কি হনু রে’ ভাবটা বেরিয়ে এসেছে। ব্যাস তাতেই করোনা বাবাজির কেল্লা ফতে। ২৯ ডিসেম্বর আক্রান্ত হল হাজার। পরদিনই সেটা দ্বিগুণ হয়ে ২ হাজার পেরিয়ে গেল। ডাক্তারবাবুরা আশঙ্কার কথা যা বলেছেন তা হল, আগামী দেড় মাসের মধ্যে নিত্য আক্রান্তর সংখ্যা ২০/২৫ এমনকি ৩০ হাজার ছাড়াতে পারে, যদি না এই মেলা, খেলা, পুজো, উৎসবে ভীড়ের লাগাম দেওয়া যায়। কলকাতা পুরসভার ভোট হল, তাতে ড্যাং ড্যাং করে জিতে টিএমসির নেতারা বিভিন্ন পদে শপথ নিল। সেখানেও করোনার হানা। শিয়ালদহের ডেন্টাল কলেজ, সেখানেও করোনা, ১২ জন ডাক্তারবাবু আক্রান্ত। এর জন্য করোনা যতটা না দায়ী তার চেয়ে অনেক বেশি দায় আমাদের মতো দায়িত্বজ্ঞাহীন, লাগামছাড়া জনগণের, যারা একটুতেই নেচেকুঁদে এক্কাকার করি। তারপর নাচতে নাচতেই মরি, পরিবারকেও মারি। অবস্থাটা যা দাঁড়াচ্ছে, তাতে সিন্দুরে মেঘ দেখছে অনেকেই। ৩১ ডিসেম্বর এবং নববর্ষের দিন আরও কত ভীড় আরও কত সংক্রমণ যে বাড়বে ভাবতেই শিউরে উঠতে হয়। আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবা লাগাম পরানো হবে না কেন? এর মধ্যেই আবার ভোট আসছে। ২২ জানুয়ারি ২০২২-এ বিধাননগর, আসানসোল, চন্দননগর ও শিলিগুড়ি পুরসভার ভোট ঘোষণা হয়েছে। তার মানেই ওই পুর এলাকাতেও সব দলের প্রচার হবে, মিটিং হবে, মিছিল হবে। লোকসংখ্যা দেখাতে প্রতিযোগিতা হবে। তারপরে ভোট মিটবে, কেউ জিতবে, কেউ হারবে এবং আমজনতা করোনার রোশানলে পুড়ে মরবে। তাতে কারোর কিছু যাবে আসবে না। তাই নিজের এবং পরিবারের স্বাস্থ্য সাবধানতা নিজেকেই দেখতে হবে। এ দুনিয়ায় সত্যিই কেউ কারোর নয়, বিপদে একমাত্র টাকা ছাড়া কিছুই পাশে থাকে না। এ বাস্তব সত্যিটা যদি বোধগম্য হয় তবেই বাঁচোয়া, নইলে মরণ রে তুই মম শ্যাম সমান— বলে উৎসবের আনন্দ মাখতে চাইলে উদ্বাহু হয়ে ফুটে যাবেন। আত্মহনন বা বলিদান অপেক্ষা করতে অতি সংক্রমণ ক্ষমতাসম্পন্ন ‘ওমিক্রন’ হয়ে। করোনা যে সাক্ষাৎ যমদূত— তা বুঝতে অতি বোদ্ধা বঙ্গবাসী যত সময় নেবে ততই রাজ্যের লোকসংখ্যা দ্রুত কমবে। রেশন কার্ড বাঁচবে, সরকারের ফ্রি চাল-গম বিতরণের সাশ্রয় হবে। হাসপাতালের ওষুধ খরচ কমবে। হে বঙ্গবাসী তাই ভেবে দেখুন, আপনিও আপনার পরিবারকে বাঁচাবেন নাকি সরকারি কোষাগারে খরচ বাঁচাবেন।
