ব্যাটে-বলে অসাধারণ ইউসুফের কারণে শচীনরাই চ্যাম্পিয়ন

রায়পুর, ২১ মার্চ, ২০২১

ভারতের মাটিতে আরও একটি ফাইনালে আবারও শ্রীলঙ্কাকে হারাল ভারতই! দশ বছর আগে মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়েতে ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো, এবার জয় শচীন তেন্ডুলকারের নেতৃত্বে ভারতীয় কিংবদন্তিদের। তিলকরত্নে দিলশানের শ্রীলঙ্কাকে ১৪ রানে হারিয়ে প্রথম আনঅ্যাকাডেমি রোড সেফটি ওয়ার্ল্ড সিরিজ টিটোয়েন্টি প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন শচীনরা।

যুবরাজ সিং দুরন্ত, তবু, ফাইনালের সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার পাওয়ার মতোই পারফরম্যান্স ইউসুফ পাঠানের। প্রথমে ব্যাট হাতে ৩৬ বলে অপরাজিত ৬২। পরে বল করতে এসে শ্রীলঙ্কার বিপজ্জনক দুই ওপেনার দিলশান এবং সনৎ জয়সূর্যর উইকেট, ৪ ওভারে মাত্র ২৬ রান দিয়ে। দিলশানের ক্যাচটা লাফিয়ে দুরন্ত নিয়েছিলেন ভারতীয় উইকেটকিপার নমন ওঝা। ইউসুফের লাফানো বল গ্লাভস ছুঁয়ে গিয়েছিলেন নমনের হাতে। ভারত তখন উইকেটের সন্ধানে কারণ দিলশান-জয়সূর্য যেভাবে শুরু করেছিলেন, আরও কয়েক ওভার থাকলে নিশ্চিতভাবেই বদলে যেতে পারত ম্যাচের রঙ। পরে জয়সূর্যকেও এলবিডব্লু করে ভারতের হাতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ রেখে দিয়েছিলেন ইউসুফ।


রায়পুরের শহীদ বীর নারায়ণ সিং আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে রবিবার টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমেছিল ভারত। বীরেন্দ্র শেহবাগ আবারও আউট মাত্র ১০ রানে এবং একটিও বাউন্ডারি না মেরেই। বদ্রিনাথও পারেননি টিকতে বেশিক্ষণ। গ্যালারি জুড়ে আওয়াজ উঠল ‘সা-চিন সা-চিন’! ২৩ বলে ৩০ রান ভারতের অধিনায়কের, পাঁচটি বাউন্ডারিতে। কিন্তু আরও খানিকক্ষণ তাঁকে ক্রিজে চেয়েছিল ভারত, যদিও সব সময় তো তা আর সম্ভব হয় না! তাই ক্রিজে যুবরাজ এবং ইউসুফ।

শচীন আউট হয়েছিলেন যখন দলের রান ৭৮। আর যুবরাজ আউট হলেন দল পৌঁছে গিয়েছিল ১৬৩ রানে। চতুথ উইকেটে যুবরাজ-ইউসুফ জুড়লেন ৮৫ রান। যুবরাজ দ্বিতীয় অর্ধশতরান পেলেন, শেষ পর্যন্ত আউট ৪১ বলে ৬০ রান করে। চারটি বিশাল ছক্কা যার মধ্যে দুটি আবার এক ওভারে। সঙ্গে চার বাউন্ডারি। ২০১১ বিশ্বকাপের সেরা ক্রিকেটার ছন্দে ব্যাট করলে সত্যিই মনে হয়, ব্যাট করাটা কী সহজ!

অন্যপ্রান্তে তাঁকে সুযোগ্য সহায়তা করলেন ইউসুফ। ভারতীয় ইনিংসে তিনিই সর্বোচ্চ রান করলেন – ৩৬ বলে ৬২। যুবরাজের চেয়েও একটি বেশি ছয়, মোট পাঁচটি আর চার বাউন্ডারিতে। ভারতের ১৮১ রানে সবচেয়ে বড় অবদান তাঁরই। শেষ ওভারে নুয়ান কুলশেখর তাঁকে আটকে দিলেও শেষ বলে তাঁর ভাই ইরফান ছক্কা মেরে ইনিংস শেষ করেছিলেন। ফলে, প্রতিযোগিতায় শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ১৮১ রান তুলেছিল ভারত।

শ্রীলঙ্কার শুরুটা দুর্দান্ত, ঠিক যেমনটা দরকার ছিল। প্রতিযোগিতায় অন্য ম্যাচগুলিতে তেমন ছন্দে না থাকলেও ফাইনালে জয়সূর্য মানেই মনে রাখার মতো পারফরম্যান্স, তাঁর খেলোয়াড় জীবন থেকেই। শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক দিলশান গোটা প্রতিযোগিতায় বল এবং ব্যাট হাতে দলকে টেনেছিলেন। ফাইনালে ২ ওভারে ২৫ রান দিয়েছিলেন, ব্যাট হাতে ১৮ বলে ২১ যদিও কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে ভালই বলতে হবে, দিলশানের এই প্রতিযোগিতায় আগের পারফরম্যান্সের তুলনায় ততটা উজ্জ্বল নয়। কিন্তু জয়সূর্য স্বমহিমায় থাকায় প্রথম উইকেটে উঠেছিল ৬২ রান, তা-ও মাত্র ৭.২ ওভারে। পরে চামারা সিলভা আউট হওয়ার পরও ১০ ওভারে ৭৫, দুই উইকেটে। ম্যাচে তখন টানটান উত্তেজনা!

শ্রীলঙ্কার রান-তাড়া থমকে গিয়েছিল প্রথমে জয়সূর্য (৩৫ বলে ৪৩, পাঁচটি চার একটি ছয়) আউট এবং তারপর উপুল থরঙ্গা ব্যর্থ হওয়ায়। ফাইনালের আগে পর্যন্ত দিলশান আর থরঙ্গাই শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং-এ ভরসা ছিলেন। তরঙ্গা রবিবার করলেন মাত্র ১৩। তারপরও শ্রীলঙ্কা শেষ ওভার পর্যন্ত ম্যাচ টেনে নিয়ে গিয়েছিল কৌশল্যা বীররত্নে আর চিন্তক জয়সিংঘের কারণে। ১৫ বলে ৩৮ বীররত্নের। বীরের মতো বুক চিতিয়ে তিনটি করে চার ও ছক্কার সাহায্যে শ্রীলঙ্কাকে এনে দিতে যাচ্ছিলেন প্রায় অসম্ভব জয়। কিন্তু ১৯তম ওভারে ঠিক সময়ে তাঁর উইকেট নিলেন মনপ্রীত গোনি। ঝাঁপিয়ে-নেওয়া বিনয় কুমারের ক্যাচটাও অবশ্যই দুর্দান্ত। তারপরেই চিন্তকও ক্যাচ দিয়েছিলেন, যা ধরতে পারেননি প্রজ্ঞান ওঝা। কিন্তু শেষ ওভারে দরকার ছিল ২৪। চিন্তকের ইনিংস শেষ হয় ৪০ রানে, শেষ ওভারে রান আউট হয়ে। মুনাফ প্যাটেল দায়িত্ব নিয়েছিলেন, ২০তম ওভারে ১০ রান দিলেন। শ্রীলঙ্কা ইনিংস থেমে গেল ১৬৭ রানে।

দুর্দান্ত সফল আনঅ্যাকাডেমি রোড সেফটি ওয়ার্ল্ড সিরিজ টিটোয়েন্টি প্রতিযোগিতায় প্রথম চ্যাম্পিয়ন হিসাবে থেকে গেল শচীনের ভারতের নামও। ম্যাচ শেষে উৎসবে মেতে ওঠার ঠিক আগে তাই স্মারক উইকেটটা সবার আগে তুলে নিলেন ভারতের অধিনায়ক শচীনই!

Leave a comment