বাংলা ছাড়িয়ে দেশ ছাড়িয়ে অশোকনগরের মডেল কন্যা বর্ষা ফটোশ্যুট-এ দুবাইমুখী

মামন জাফরান

বয়স : ২৪
শহর : বারাসত
উচ্চতা : ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি
ওজন : ৬০
বাস্ট : ৩২
ওয়েস্ট : ৩২
হিপস : ৩৪
িস্কন টোন : ফেয়ার
আই কালার : ডার্ক ব্রাউন
হেয়ার কালার : ব্ল্যাক
এডুকেশন : বিএ (অনার্স)
ই-েমল : barshq@gmail.com

উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগর ৫ নম্বর থেকে দুবাই-এর দূরত্ব কত? কম-বেশি 3367.. কিলোমিটার তো বটেই। উত্তম-অপর্ণার সাদা-কালো ‘জয়জয়ন্তী’-তে মানব রেলগাড়ির যাতায়াতে অসাধারণ গান গেয়েছিলেন সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়— দিল্লি-বম্বে-মাদ্রাজ ঘুরে যাবে মোতিহারি— এ রেল গাড়ির নামটি বেশ মেলেডি রিদম্ মিউজিক এক্সপ্রেস— টাটা- বাইবাই…। কেন এমন মুখপাত? সেটা ক্রমশ্য প্রকাশ্য।
আজ মডেল কন্যা বর্ষা রায় এর গল্প। বয়স ২৪, লম্বা, চেহারায় একটা ওয়েস্টার্ন লুক আছে। অশোকনগরেই তার জন্ম। মা রাজশ্রীদেবী পুরোপুরি গৃহবধূ। বাবা তাপস রায় গাড়ির ব্যবসা করতেন। তিনি এখন এই সংসারে নেই। খুব কষ্ট করেই জীবনযাত্রা চলত একসময়। বর্ষা অশোকনগর আদর্শ বালিকা বিদ্যালয় থেকে পাস করে এলাকারই শ্রীচৈতন্য কলেজ-এ বাংলায় অনার্স নিয়ে ভর্তি হয়। তারপর গ্র্যাজুয়েশন কমপ্লিট করে জয়েন করে বারাসতের এসএমপিআই মডেলিং ইনস্টিটিউটে। সেদিন রবীন্দ্রসদনে বসে আড্ডা হচ্ছিল। জানতে চাইলাম, এত পেশা থাকতে হঠাৎ মডেলিং-এ কেন এলে? বর্ষা জানালো, খুব ছোট থেকেই তার ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির প্রতি অদ্ভুত আকর্ষণ রয়েছে। ক্লাস সেভেন-এ পড়ার সময় থেকে সে মনে মনে সুস্মিতা সেন ও প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে নিজের আইডল ভেবে নেয়। তারপর ওইদিকে ছুটে চলাটা খুব স্বতস্ফূর্তভাবেই মনে মনে আসে। গ্র্যাজুয়েশন-এর পর মডেলিং নিয়ে পড়াশোনা তথা গ্রুমিং শিখতে শিখতেই ২০১৪ থেকে অনেক ফটোগ্রাফার তাকে ফটোশ্যুটের অফার দিতে থাকে। অজস্র এমন ‘নন পেড’ কাজ করতে করতে অভিজ্ঞতাটা বেশ পোক্ত হবার পরে ২০১৮-তে শিলিগুড়িতে বেঙ্গল নেক্সট টপ মডেল সেশন-১-এ প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে বর্ষা প্রথম বারেই ফার্স্ট রানার আপ। পরেরবার আবার ওই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় ২০১৯-এ, সেবার সেকেন্ড রানার আপ হয়। প্রথম বিজয়ীনীর শিরোপা জিততে না পারলেও এই দু-বছরের দুটি প্রতিযোগিতার আসর তার সামনে বিরাট সুযোগের দরজা খুলে দিল। বর্ষা জানালো, ২০১৮-তে ওই প্রতিযোগিতার পরেই দৃষ্টি অপটিকলস্-এর ব্যানার, হোর্ডিং তাদের পাউচ ব্যাগের ওপর মডেল হিসেবে তার ছবি শোরগোল ফেলে দেয়। খুব তাড়াতাড়ি কলকাতা বা বাংলা ছাড়িয়ে তার মডেলিং দক্ষতার খবর ছড়িয়ে যায় ভিন রাজ্যগুলিতেও। মুম্বাইয়ের মডেল কো-অর্ডিনেটর এজেন্সি আইএনএফটি (ইন্টারন্যাশনাল ফ্যাশন টেকনোলজি) তাকে কাজের অফার দিল। বিভিন্ন মডেল শো-তে ডাক আসতে থাকল মুম্বাই, দিল্লি, ব্যাঙ্গালুরু, পুণে, হায়দরাবাদ থেকেও। কাজ করতে করতে খন যে ন্যাশনাল লেভেলে চলে গেছি নিজেই জানি না, বলল বর্ষা। খুব ভাল কথা, ভবিষ্যতে কি প্ল্যান? বর্ষা জানাল, মুম্বাইয়ের একটা এজেন্সির সঙ্গে কথা হয়েছে। ওরা এই বছরেই দুবাইতে কিছু এক্সক্লুসিভ শ্যুট করবে। আমায় চেয়েছে। সঙ্গে মা যাবেন। পাসপোর্ট ভিসা বানানো হচ্ছে। আসলে এই অফারটা আগেই ছিল, কিন্তু কোভিড পরিস্থিতির জন্য সব এলোমেলো হয়ে গিয়েছিল। আবার এখন সব ছন্দে ফিরছে আস্তে আস্তে। তাছাড়া দেশের মধ্যে থিম বেসড্ শ্যুট করতে দিল্লি-মুম্বাই-পুণে-ব্যাঙ্গালুরু বহুবার গেছি। মাসে এখন দুটো আউট স্টেশন শ্যুট তো থাকছেই। আমি কিন্তু কোন সস্তার কাজ নিই না, করিও না। পেশার শুরুতে যা হয়ে গেছে, গেছে। তখন বুঝতাম না। এখন বাইরে ১০ দিনের শ্যুট মানেই ৫০,০০০ টাকা নিই। বাবা নেই। মা গৃহবধূ। সংসারটা তো আমাকেই চালাতে হয়। তাই পুরোদস্তুর পেশাদার আমি। মডেলদের বয়স হলে কে ডাকবে বলুন, জানি আর বড়জোর ২ বছর, তারপর ডাইরেক্ট মডেলিং থেকে সরে এসে গ্রুমার হিসেবে কাজ করব ভেবেছি। দেখা যাক কি হয়। মডেলিং থেকে অভিনয়ে তো অনেকেই এসেছে, তোমার ২ আইডলও তো তাই। তেমন কিছু ভাবছো না? বর্ষা বলল, অফার আসেনি বা আসছে না তা নয়। আমি ‘গোয়েন্দা গিন্নি’-তে ২টো এপিসোডে কাজও করেছি। কিন্তু সত্যি কথা বলতে অ্যাক্টিং আমার পোষায় না। মডেলিংটাই অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। জানেন, একজন বিদেশি পরিচালক তার ছবিতে কাজ করার অফার দিয়েছেন। ভারতেই শ্যুট হবে। ইংরাজি ছবি। রাজস্থান এবং বাংলাতে লোকেশন বাছার কাজ চলছে। দেখি কেমন চরিত্র, কি ব্যাপার। খুব খুল্লাম খুল্লা কিছু হলে আমি নেই। বিয়ে করবে না? হ্যাঁ, করবো তো। আমার বয়ফ্রেন্ড খুব কোঅপারেটিভ, খুব ভালো বন্ধু। কিছু কাজ হতে রয়েছে। সেগুলো মিটিয়ে বিয়ে করব। আমার হবু শ্বশুরমশাই খুব ভালো মানুষ। তাছাড়া মা আছেন, তাকেও তো দেখতে হবে। উনিই আমার বাবা এবং মা— লড়ে যাচ্ছি, দেখি কপালে কি আছে।
জয়জয়ন্তীর গানটা খুব মনে পড়ছিল বর্ষার কথায়।

Leave a comment