মথুরাপুর লোকসভার অন্তর্গত রায়দিঘি বিধানসভায় বিজেপি প্রার্থী শান্তনু বাপুলিকে ঘিরে অসন্তোষ, ক্ষোভ দেখা দিচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেস ওই আসনে মথুরাপুর ২ ব্লক সভাপতি ডা. অলোক জলদাতাকে প্রার্থী করার পর থেকেই শান্তনু বাপুলি বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন বলে জানা যায়। এরপর ১৪ মার্চ দিল্লিতে বিজেপির তৃতীয় ও চতুর্থ দফার প্রার্থী ঘোষণায় দেখা যায় বিজেপি প্রার্থী করেছে শান্তনু বাপুলিকে। ওইদিনই শান্তনুবাবু ফেসবুকে জানান, তিনি বিজেপির সদস্যপদ গ্রহণ করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে বিজেপি করছেন, এমন কয়েকজন কর্মী-সমর্থকদের বক্তব্য, ওনার অঙ্গুলিহেলনে আমাদের ছেলেদের মিথ্যা কেস দেওয়া হয়েছে। আমাদের ছেলেরা মার খেয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী ঘোষণা হওয়ার আগে পর্যন্ত তৃণমূলের প্রচার করে গেছে। রাজ্যে তৃণমূলের ঝড় আসছে বলে দাবি করেছিলেন। সেই বাপুলিবাবু এখন ঝড়ের উল্টোদিকে কেন এলেন? এই রায়দিঘি আসনটি এবার বিজেপি জিতত। কিন্তু শান্তনু বাপুলিকে প্রার্থী করার ফলে জয় তো দূরঅস্ত তৃতীয় স্থানে চলে যাবে দল। দলের নেতৃত্ব যদি অবিলম্বে প্রার্থী বদল না করেন, তাহলে হার অবশ্যই হবে। এবার দলের নেতৃত্ব কি করবেন সেটা তাঁদের ব্যাপার। আমরা যাদের হাতে অত্যাচারিত হয়েছি, তার হয়ে লড়াই করব। বসে থাকব। কিন্তু শান্তনু বাপুলির হয়ে প্রচার করব না। তাঁদের আরও বক্তব্য, যারা করোনার সময় মানুষের পাশে থাকলেন, বিপদে-আপদে কর্মীদের পাশে থাকলেন, তাঁদের কোনও মূল্য নেই? জানতে চাইলাম, ঠিক কার কথা বলছেন। তিনি বললেন, রায়দিঘির মানুষ জানেন করোনার সময় কে মানুষের পাশে ছিলেন। আমি নাম করলে কেউ কেউ গোষ্ঠী বলে দেগে দেবেন, তাই নাম বলছি না। শুধু রায়দিঘি নয়, বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বও জানেন কে এই এলাকায় মানুষের, বিজেপি কর্মীদের পাশে থাকেন।
অন্যদিকে একটি ভিডিও এখন ভাইরাল হয়েছে। লালপুর অঞ্চলে কয়েকজন মানুষ শান্তনু বাপুলির পোস্টার আগুন ধরিয়ে প্রতিবাদ জানায়। ভিডিওতে শোনা যাচ্ছে, তাঁরা বলছেন, টিকিট না পেয়ে বিজেপিতে যাওয়া। লালপুর অঞ্চলে আসলে বুঝিয়ে দেব। ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় গ্রুপে ওই কেন্দ্রের প্রার্থী বদল করার আবেদন জানিয়ে পোস্টও হয়েছে।
এখন দেখে নেওয়া যাক ওই বিধানসভা ক্ষেত্রে ২০১৬ ও ২০১৯ সালের ফলাফল। ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী দেবশ্রী রায় পেয়েছিলেন ১,০০,৯০৫ ভোট। বামফ্রন্ট প্রার্থী কান্তি গাঙ্গুলি পেয়েছিলেন ৯৯,৬৪৮টি ভোট। বিজেপি প্রার্থী পেয়েছিলেন ৭,৬৯৯ ভোট।
২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সি এম জাতুয়া পেয়েছিলেন ১,০৪,২৬১ ভোট। বিজেপি প্রার্থী শ্যামাপ্রসাদ হালদার পেয়েছিলেন ৯১,৩৪২ ভোট। বামফ্রন্টের প্রার্থী শরৎ হালদার পেয়েছিলেন ১৬,১২৩ ভোট। এই ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, ২০১৬ সালে বামফ্রন্ট প্রার্থী কান্তি গাঙ্গুলি সামান্য ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন। ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী ভালো ভোট পেয়েছেন এই এলাকা থেকে। স্পষ্টতই দেখা যাচ্ছে বামেদের ভোট বিজেপির দিকে গেছে।
এবারও বামফ্রন্টের প্রার্থী হয়েছেন কান্তি গাঙ্গুলি। বিপদে আপদে মানুষের পাশে থাকা কান্তি গাঙ্গুলি এবার অনেক অ্যাডভান্টেজ পেয়ে গেলেন। লালপুর, দেবীপুর অঞ্চলের অনেকেই আবার কান্তি গাঙ্গুলির হয়ে প্রচারে নেমেছেন। শান্তনু বাপুলি বিজেপির প্রার্থী থাকলে, বাম থেকে রামে যাওয়া ভোট আবার ফিরে পাবেন কান্তিবাবু, এমনটাই মত রায়দিঘির অনেক মানুষের। অন্যদিকে শান্তনুর অনুগামী বলে পরিচিতরাও কেউ কেউ প্রকাশ্যেই বলছেন, তিনি বা তাঁরা তৃণমূলেই আছেন।
রায়দিঘি বিধানসভা আসনটি বিজেপির সম্ভাবনাময় থাকলেও প্রার্থীর জন্য এবার এই আসন বামফ্রন্ট প্রার্থী কান্তি গাঙ্গুলির অনেক এগিয়ে গেলেন। লড়াই হবে বামফ্রন্টের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের, মত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।
