মামন জাফরান
বয়স : ২৮
সিটি : কলকাতা
হাইট : ৫.৫
ওয়েট : ৬৫
বাস্ট : ৩৪
ওয়েস্ট : ৩২
হিপস : ৩৪
স্কিন টোন : ডাস্কি
আই কালার : ডার্ক ব্রাউন
হেয়ার কালার : ব্ল্যাক
এডুকেশন : বিএ অনার্স
ই-মেল : sohanilive84@gmail.com

এ এক অসম্ভব এবং অদ্ভুত প্রতিভা। একেই বুঝি বলে গড গিফটেড। একদিনও মডেল হিসেবে কোন গ্রুমিং ক্লাসে না গিয়ে প্রথম াম্প-এই এক নম্বর। আবার জীবনে কোন দিন কোন অভিনয় না করে সরাসরি টিভি সিরিয়াল, শর্টফিল্ম এমনকি বড় ফিচার ছবিতে কাজ করা। সেখানেও যথেষ্ট কৃতিত্ব দেখিয়ে বলিউডের তিন জন প্রযোজকের নেকনজরে পড়া— সোজা মুম্বাইতে ছবির অফার পাওয়া। এমনই এক দুর্দান্ত বাঙালি মডেল কন্যা তথা অভিনেত্রী অর্পিতা পাল এবারের সংখ্যায় প্রতিফলন-এর প্রতিনিধির মুখোমুখি। মডেলিং এবং অভিনয়ে যথেষ্ট নাম করা এই অর্পিতা ইতিমধ্যে সাউথসিটি মলের কাছে ফ্যাশন আইকনিক অ্যাকাদেমি নামে একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালাচ্ছে। সেখানে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা নেহাত কম নয়। আবার একইসঙ্গে আইটি-তে চাকরি, সঙ্গে মডেলিং এবং অভিনয়ও করে চলেছে। তাই সারা দিনে অবসর বলতে প্রায় কিছুই নেই। এর মধ্যেই আগামী দেওয়ালিতে কিছু বিশেষ ডিজাইনের পোশাকের মডেল হবার জন্য বেঙ্গালুরু থেকেও ডাক এসেছে। অপির্তা জানালো, তাঁর জন্ম দিল্লিতে। দিল্লিতেই শ্যামাপ্রসাদ কনভেন্ট স্কুলে তার পড়াশোনা শুরু। তারপর বদলি হয়ে তাদের মধ্যবিত্ত পরিবারটি কলকাতায় চলে আসে। অর্পিতা কলকাতায় এসে ভর্তি হয় শিয়ালদহের কাছে সেন্ট পলস্ স্কুলে। ১২ ক্লাস অবধি এই স্কুলেই— এই সময় বাস্কেটবল খেলে যথেষ্ট নাম হয়েছিল। তারপর সুরেন্দ্রনাথ কলেজ থেকে ইকনমিক্স-এ অনার্স নিয়ে গ্রাজুয়েশন করে আইটি-তে চাকরি। তখনও মিডিয়া কি, কেন, কেমন কিছুই জানা ছিল না। বাস্কেটবল খেলতে খেলতে চেহারায় একটা বাঁধুনি ছিল, উচ্চতা ছিল, ব্যাস এইটুকুই। চাকরি ক্ষেত্রেই ২০১৯-এ একটা াম্প শো হয়। তাঁকে প্রায় ধরেবেঁধেই সতীর্থরা অংশ নিতে পাঠিয়ে দেয়। অর্পিতা বলল, সে দিন যে কি অবস্থা হয়েছিল ভাবতেই ভয় করে। কোনদিন কোন মডেল শো বা র্যা ম্প করিনি। কিছুই জানি না। যাইহোক নেমে পড়লাম। ইভেন্টটার নাম ছিল ‘মিস স্টাইল আইকন ২০১৯’। প্রতিযোগিতার শেষে দেখলাম আমিই ফার্স্ট হয়েছি। দর্শক এবং বিচারকদের আসেন যাঁরা ছিলেন সবাই উচ্ছ্বসিত। মনে মনে একটা প্রত্যয় উপলব্ধি করলাম সেদিন। ভাবলাম কিছুই না জেনে মাঠে নামটা উচিত হচ্ছে না। মডেলিং গ্রুমিংটা তারপর শিখতে ৬ মাসের কোর্সে ভর্তি হলাম গড়িয়ায় ‘গ্লুভি ফক্স’-এ। তখন থেকেই কিন্তু কাজের অফার পরপর আসছে। অঞ্জলী জুয়েলার্স, আশা সিল্ক হাউস, ডি ডি হিন্দুস্থান-এর ক্যালেন্ডার ২০২০, এসবিআই-এর ক্যালেন্ডার ২০১৯-এমন অনেক। কলকাতার বাইরে থেকেও কাজ আসতে শুরু করেছিল, লাভেবল, ইনারওয়ার, বিকিনি শুট নানা রকম। এত প্রেসার কিছু কাজ না বলতেও হয়েছে। এর মধ্যে হেনরি আইল্যান্ডে টিভিসি-র বিকিনি শুটটা দারুণ এনজয় করেছি। কাজ করতে করতেই মনে হলো আমি যে অনুভব থেকে মনের জোরটা পেয়েছি, সেটা পরের প্রজন্মকেও শেখাব। তার জন্যই ফ্যাশন আইকনিক অ্যাকাদেমি করেছি। সাউথ কলকাতায় আমার সেন্টার, কিন্তু থাকি প্রত্যন্ত নর্থ-এ। যাতায়াতটাও সময় কেড়ে নেয়।
অর্পিতার এমন অভাবনীয় তথা আশ্চর্য মডেলিং জীবনের পাশাপাশি তার অভিনয় প্রতিভাও কম নয়। সেটা কিভাবে শুরু হল এবং আগামী দিনে আর কি কি করতে চলেছে এই বিস্ময় কন্যা জানতে চাইলে অর্পিতা এবার হেসেই ফেলল। ইতিমধ্যেই স্টার জলসার ২টি জনপ্রিয় ধারাবাহিক-এ কাজ করছে অর্পিতা। একটি ‘খড়কুটো’, এখানে তার চরিত্র একজন সিনিয়র সায়েন্টিস্ট, নাম ‘লীনা’। আর একটি ‘সাঝের বাতি’। এই দুটি সিরিয়ালের অভিনয় এখন অর্পিতাকে বাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছে। অর্পিতা হেসেই বলল, জানেন তো অভিনয় কাকে বলে কোনদিনই জানতাম না। কোন দিন কোন নাটক, যাত্রা বা কোথাও অভিনয় করিওনি। ছোটবেলায় নাচ, গান শিখতাম। ব্যাস ওইটুকুই। কিন্তু এত নামী দক্ষ অভিনেতাদের সঙ্গে কাজ করবো সেটা কখনই ভাবিনি। স্বপ্নও দেখিনি। তা এলে কিভাবে? অর্পিতা জানালো ফেসবুক করতে করতে আলাপ হয় অনিমেশ বাকুলির সঙ্গে। উনি খুব কো-অপারেটিভ মানুষ। উনিই ‘খড়কুটো’ কো-অর্ডিনটর। একদিন যেতে বললেন, গেলাম। ব্যাস হয়ে গেল। তারপর স্টার জলসাতেই ‘সাঝের বাতি’-তেও কাজ এল। অর্পিতা জানালো সে অভিনয়ে না থাকলেও তার পরিবারে কিন্তু অভিনয় আছে। পিসেমশাই পার্থপ্রতীম চৌধুরী একজন ‘চিত্র পরিচালক’। পিসিমা বুলবুল চৌধুরী অভিনেত্রী ছিলেন।
টিভি সিরিয়ালে কাজের নিষ্ঠা ও জনপ্রিয়তা থেকেই সত্যজিৎ দাশ পরিচালিত ‘কলঙ্কিনী রাধা’ শর্ট ফিল্ম-এ দারুণ একটা চরিত্র পেয়েছে অর্পিতা। যৌনকর্মীদের নিয়ে গল্প। ছবিটা মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। তারপর অরুদীপ্ত দাশগুপ্তর ফিচার ছবিতে কাজ করেছে। একজন শিল্পীর সঙ্গে তার মডেলের মানসিক শারীরিক নানা টানাপোড়েন নিয়ে গল্প। মডেলের সঙ্গে শিল্পীর যৌনাচার। এরপর শশী নায়ার পরিচালিত হিন্দি ওয়েব সিরিজ ‘সিটি অব লাভ’-এও দারুণ চরিত্র সামলেছে অর্পিতা। আগামী দিনে মুম্বাই-এর অফারগুলো ম্যাচিওর করলে হয়তো বলিউডে আও এক বাঙালি অভিনেত্রীর অভিষেক হবে। আমরা তার জন্য অগ্রিম শুভেচ্ছা জানিয়ে রাখি অর্পিতাকে। কথার শেষ পর্বে জিজ্ঞাসা করলাম, তুমি মডেলিং-এ থাকবে না অভিনয়ে, কি প্ল্যান? খুবই মধ্যবিত্ত সাধারণ ডাউন টু আর্থ মডেল তথা অভিনেত্রী জানালো, সেটা সময় বলবে। তবে মডেলিংটা এবং অভিনয়-এর কাজ পাওয়া— এটা জমে গেলে আইটি-র চাকরিটা ছেড়ে দেবো ভেবেছি। দিতে হবেই কারণ সময় পাব না। শুভেচ্ছা এবং সাফল্য কামনা করে বেরিয়ে এলাম অর্পিতার নিজের স্বপ্নে গড়ে তোলা স্কুল থেকে।

