সোনার বাংলা গড়তে গিয়ে ‘সোনার গোপাল’ গড়েছেন মুখ্যমন্ত্রী

তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে নাম লেখানোর পরে বেশ কিছুদিন চুপচাপ কাটিয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী তথা কলকাতার প্রাক্তন মহানাগরিক শোভন চট্টোপাধ্যায়। তিনি এবং তাঁর বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে মিডিয়াতে মাঝে মাঝে খবর হলেও বড় কোন প্রতিক্রিয়া শোনা যায়নি। ১১ জানুয়ারি কলকাতার নির্বাচনি কর্মকাণ্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজেপির শোভনবাবু গোলপার্ক থেকে সেলিমপুর পর্যন্ত রোড শো করে আবার প্রচারের আলোয় এলেন, সঙ্গে বান্ধবী বৈশাখী। বিজেপির মঞ্চ থেকে এদিনই প্রথমবার বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস তথা একসময় ‘মা’ বলতেন যাকে সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই সমালোচনায় বিদ্ধ করলেন। তৃণমূল ছেড়ে ভারতীয় জনতা পার্টিতে যাওয়া অপর প্রাক্তন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যখন সর্বত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো-কে সরাসরি তোলাবাজ বলছেন, শোভনবাবু সেই কথাটাই এদিন ঘুরিয়ে বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোনার বাংলা গড়েছেন বলেছেন, কিন্তু তিনি গড়েছেন এক ‘সোনার গোপাল’। সেটাই তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বনাশ হয়েছে। শোভন-বৈশাখী রোড শো দেখতে মানুষের ঢল নামে রাস্তায়। তার মধ্যে কজন রাজনীতি সচেতন আর কতজনই কৌতুহলে দেখতে আসা মানুষ তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। এই জনসমাগম কতটা বিজেপির পক্ষে বা তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্দে তাতেও প্রশ্ন চিহ্ন। কিন্তু বক্তৃতায় শোভনবাবু যা বললেন, তাতে বিতর্কের ইন্ধন যে যথেষ্ট ছিল তা খুব পরিষ্কার। খোদ মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তাঁর মন্ত্রিসভার প্রাক্তন সদস্য তথা আদরের কানন সরাসরি বিধানসভায় মিথ্যা কথা বলতে বাধ্য করা হয় বলে জনতার দরবারে নালিশ করলেন। গীতাঞ্জলি প্রকল্পের একটি বাড়িও মন্ত্রী হিসেবে তিনি অনুমোদন করেননি অথচ তাঁকে মিথ্যা বলানো হয়েছে বিধানসভায়— বললেন শোভন ওরফে কানন। একবার বলছেন, বল ২৫ লক্ষ বাড়ি, আবার সভাতেই মুখ্যমন্ত্রী বলে বসলেন ২৫ নয় ওটা ৫০ লক্ষ বাড়ি। তৃণমূল কংগ্রেস তথা রাজ্য সরকারের এহেন ঘরের তথ্য বাইরে বেরিয়ে পড়ায় শাসক-বিরোধী শিবির সমালোচনার ইন্ধন পেয়ে গেছে। বিজেপি শুধু না, বাম-কংগ্রেস শিবির থেকেও সরকারের মিথ্যাচারের ধিক্কার জানানো হচ্ছে।

Leave a comment