চন্দ্রাণী সাধুখাঁ (বিশ্বাস)
গাড়িতে উঠে সিটের উপর শরীরটা এলিয়ে দিয়ে চোখ বন্ধ করলো রীতালি। তার সমস্ত শরীর জুড়ে একটা অদ্ভুত শীতলতা নামছিল। আর এইই শীতল হয়ে যাওয়া শরীরটা নিয়ে বড় স্বস্তি পাচ্ছিল সে।
চার চারটে বছর ধরে অলস মুহূর্তগুলোকে সে হাজারও সুখের মাঝেও যেন উত্তপ্ত আগ্নেয়গিরির গলিত স্রোতের মাঝে পার করে চলেছিল।সূপর্নর দেওয়া তীব্র অপমান আর অবজ্ঞাগুলো তার দেহ মন দখল করে নিত যেন।
অথচ এতদিন ধরে বয়ে বেড়ানো সেই যন্ত্রনাদায়ক কষ্টকর অনুভূতিগুলো যেন মুছে গেল এক লহমায়। মনটা শান্ত হয়ে গেল আচমকাই।
রীতালি এটুকু বুঝতে পারছিল, এতদিন যে অপমান, যে যন্ত্রনা, যে হীনমন্যতা সে বয়ে বেড়িয়েছে, আজ থেকে সেই অপমান, সেই যন্ত্রনা, সেই হীনমন্যতা সূপর্নর সঙ্গী হয়ে গেছে।
চারটে বছর! ভাবতে গেলে বড়ই কম সময়। কিন্তু এই চারটে বছরের প্রতিটা বছর সে প্রায় ঘন্টা, মিনিট, সেকেন্ড গুনে কাটিয়েছে আর ছটফট করেছে।
রীতালি নিজেও তো সুস্থ ছিল না। আত্মহত্যার মত সিদ্ধান্তও নিয়েছিল সে।
আর তার জীবনটা বদলে গেল তো ওই ভুল সিদ্ধান্তটা থেকেই।
সত্যিই বড় ঘটনাবহুল এই চার চারটে বছর!
অথচ সেই চারটে বছর পর আবারও সূপর্নর মুখোমুখি হতে হল তাকে। আসলে ভাগ্যের থেকে বড় খেলোয়াড় বোধহয় কেউ হতে পারে না। নাহলে চার চারটে বছর পর এভাবে আজ সূপর্ণ আর সে এভাবে মুখোমুখি হবেই বা কেন?
রীতালি নিজেও তো প্রানপণে সূপর্নর থেকে যতটা সম্ভব দূরেই সরে গিয়েছিল। মন থেকে সরাতে না পারলেও যোগাযোগের সব মাধ্যমগুলো তো সে বন্ধই করে দিয়েছিল। পাল্টে ফেলেছিল নিজের ফোননম্বরটাও। ফেসবুকে ব্লক করে দিয়েছিল। ফলে সূপর্নর বিয়ের খবরটা জানলেও ওদের সন্তান লাভের খবরটা আর জানা হয় নি।
অথচ সেই ছেলেরই অন্নপ্রাশনে মুখোমুখি হতে হল সূপর্ন আর রীতালিকে।
“কি গো টায়ার্ড লাগছে নাকি? “ মৈনাকের প্রশ্নে যেন বাস্তবে ফেরে রীতালি।
মৈনাককে আশ্বস্ত করতেই সে বলে ওঠে, “না না ক্লান্ত নই। আসলে অবেলায় খাওয়া হল তো! আর এখন খাওয়ার ইচ্ছে না থাকলেও মহুয়ার কথা ফেলতে না পেরে খাওয়াটা একটু চাপেরই হয়ে গেছে গো! তবে তুমি টেনশন নিও না। বাড়ি পৌঁছে একটা ওষুধ খেয়ে নিলেই আশা করি ঠিক হয়ে যাবে। “
মৈনাক বলে ওঠে, “একটা কাজ করি না! ফেরার পথে ডঃ মুখার্জীকে দিয়ে একবার চেক আপ করিয়ে নিয়ে যাই না কেন! “
রীতালি এবার হেসে ফেলে। বলে, “তুমি একটা আস্ত পাগল। বলছি, একটু বেশি খাওয়া হয়ে গেছে। আর কিছু নয়! “
মৈনাক বলে, “আসলে ভয় লাগে! “
রীতালি জানে, মৈনাক তার প্রতি কতটা কেয়ারিং। প্রতি পদে সেটা টের পায়। আসলে মৈনাকের বাবা হঠাৎই ম্যাসিভ অ্যাটাকে চলে গেছেন। মৈনাক ডাক্তার ডাকার সুযোগটাও পায় নি। তারপর থেকেই মৈনাক ওর মা আর রীতালিকে হারানোর ভয়ে ভয়ে থাকে।
মৈনাককে আশ্বস্ত করতেই রীতালি বলে ওঠে, পাগলামি না করে, মন দিয়ে ড্রাইভটা করো দেখি।
মৈনাক মৃদু হেসে চুপ করে যায়। আর রীতালি! মৈনাকের দিকে চোখ রেখেই ডুবে যায় অতীতে।
সূপর্নর সাথে তার আলাপ হয়েছিল ফেসবুকেই। রীতালি তখন হন্যে হয়ে একটা চাকরি খুঁজছে। ঘরে অসুস্থ বাবা, অসুখী মা আর উচ্ছন্নে চলে যাওয়া বেকার দাদা। বাবা প্রাইভেট কোম্পানির সামান্য চাকুরে। একদিন হঠাৎই পক্ষাঘাতে অসাড় হয়ে গিয়েছিল শরীরের বামদিকটা। কোম্পানির লোকজন প্রথম প্রথম সাহায্য করলেও পরে সামান্য কিছু টাকাপয়সা দিয়ে হাত গুটিয়ে নিয়েছিল। দাদার এসব দিকে কোনো ভ্রূক্ষেপই ছিল না। তার নেশার খরচ আর দুবেলা দুথালা ভাত হলেই হল। তা না হলে চিৎকার গালিগালাজ ভাঙচুর শুরু হয়ে যেত।
রীতালি তখন পাগলের মত টিউশনি করে। সারাদিন ভালো করে খাওয়াটাও জুটতো না। আর সেই পয়সা যখন মা দাদার নেশা করার জন্য দাদার হাতে তুলে দিত, তখন রীতালি আর চুপ করে থাকতে পারতো না। কিন্তু প্রতিবাদ করলে মা অদ্ভুত ভাবে দাদাকেই সমর্থন করতো। রীতালি বুঝতে পারতো, একটা মেয়ে যত পরিশ্রমই করুক না কেন, যত দায়িত্ব কর্তব্যই পালন করুক না কেন, বাবা মায়ের আসক্তি সেই অপদার্থ পুত্রসন্তানটির উপরই।
এইরকম একটা দিশেহারা সময়ে
সূপর্নর সাথে একটা দুটো কথা বলতে বলতে আলাপে লেগেছিল অন্তরঙ্গতার ছোঁয়া। শুরু হয়েছিল স্বপ্ন দেখা। সূপর্নর আনাগোনা শুরু হয়েছিল রীতালিদের বাড়িতে। হবু জামাই হিসেবে সকলেই গ্রহন করেছিল তাকে। মা তো সাধ্যের বাইরে গিয়েও তাকে যত্ন করার চেষ্টা করতো। এমনকি সূপর্ন যেদিন বাড়িতে আসতো, নেশাতুর দাদাও সেদিন আর দিনের বেলা বাড়ি ফিরতো না।
সূপর্নর আসাযাওয়া যতই বাড়তে লাগলো রীতালি ততই প্রতি মুহূর্তে আশা করতো, সূপর্নও হয়তো তাকে তাদের বাড়িতে নিয়ে যাবে।
আসলে সূপর্নর মুখে তাদের প্রাসাদোপম বাড়ির গল্প শুনে শুনে রীতালির ইচ্ছে হত, বিয়ের আগেই একবার শ্বশুরবাড়িখানা দেখে আসতে। দু একবার ইচ্ছা প্রকাশ করেও ফেলেছিল রীতালি।
কিন্ত সূপর্ন তাচ্ছিল্যের সাথে রীতালির ইচ্ছেটাকে নস্যাৎ করে বলেছিল, “ কোনো ভদ্রবাড়ির মেয়ে বিয়ের আগে শ্বশুরবাড়িতে যায় না। আমাদের পরিবারে এমন ঘটনা ঘটে নি কখনও। তাই তুমি একেবারে বউ হয়েই ও বাড়িতে যাবে।তার আগে নয়। এটা আমাদের পরিবারের রীতি নয়। “
সেই মুহূর্তে সূপর্নকে প্রবল ব্যক্তিত্বময় মনে হয়েছিল রীতালির। এখন অবশ্য রীতালি বুঝতে পারে, ওটা ছিল সূপর্নর ঝুটো আভিজাত্যের দেখনদারি।
যাই হোক সূপর্নর বাড়িতে রীতালির কোনোদিনই যাওয়া হয়ে ওঠে নি।
তারপর একদিন সূপর্ন চাকরি পেয়ে গেল টেলিকম ডিপার্টমেন্টে। মস্ত বড় পোস্টে। রীতালি সেই দিন উপোস করে একাগ্রচিত্তে মা ভবতারিণীর পূজো দিয়ে এসেছিল।
যদিও সূপর্ন রীতালির এধরনের গাঁইয়া মানসিকতায় নাক সিঁটকেছিল। তবু পূজো দিয়ে অদ্ভুত এক শান্তি পেয়েছিল রীতালি।
কিন্তু এরপরই সব যেন এলোমেলো হয়ে গেল।
সূপর্নর সাথে দেখাসাক্ষাৎ বা কথালাপ, সবই হয়ে গেল অনিয়মিত।
ফোন করলেও রীতালিকে শুনতে হত, সূপর্ন ব্যস্ত আছে। পরে ফোন করছে।
কিন্তু পরের ফোনটা আর আসতো না।
অবশেষে একদিন সূপর্ন রীতালিকে জানালো, সে বিয়ে করতে চলেছে।
কথাটা শুনে রীতালি হঠাৎই যেন থমকে গিয়েছিল। ভেবেছিল, সূপর্ন মজা করছে। নিশ্চয়ই পাত্রী হিসেবে তার কথাই বলবে!
কিন্তু পাত্রী হিসেবে যখন সে মহুয়া নামের কোনো এক সম্পন্ন বনেদী পরিবারের একমাত্র মেয়ের গল্প শোনাতে লাগলো, তখন রীতালির আর সহ্য হয় নি।
ক্ষোভে অপমানে ঝলসে উঠেই
সে কৈফিয়ৎ চেয়েছিল, সূপর্ন তার মন নিয়ে এভাবে খেলা করলো কেন?
সূপর্ন কেমন যেন একটা ক্রূর হাসি হেসে বলেছিল, ব্ল্যাকমেল করে লাভ হবে না।
এমন কি রীতালির মা যে সূপর্নকে আদরযত্ন করতেন, তাকেও সূপর্ন ‘ধান্দাবাজির আদরযত্ন ‘ বলে অপমান করতে ছাড়ে না।
একটা অসহায় পরিবারের সব কথা জানার পরেও সূপর্নর মুখে এসব শুনে রীতালি চিনে নিতে পেরেছিল সূপর্নর জাতটা।
আর রীতালির হেরে যাওয়ার যন্ত্রনাটা সূপর্নর কাছে মনে হয়েছিল ব্ল্যাকমেইল।
রীতালির ঘেন্না হয়েছিল। যতটা ঘেন্না হয়েছিল সূপর্নর উপর তার চেয়েও বেশি ঘেন্না হয়েছিল নিজের উপর। ঘেন্না হয়েছিল নিজের শরীরটাকেও।
সে আর দেরি করে নি আর। মরনকে আঁকড়ে ধরার প্রবল আকাঙ্খায় ছিন্ন ভিন্ন করে ফেলেছিল নিজের হাতের শিরা।
নেশা করার পয়সা না পেলে যে দাদা তাকে গাল মন্দ করতো, সেই
নেশাতুর দাদাই চোখের জলে ভেসে সংজ্ঞাহীন বোনকে নিয়ে ছুটে গিয়েছিল স্থানীয় হেল্থ সেন্টারে। সেখান থেকে সদর হাসপাতালে। শুরু হয়েছিল থানা পুলিশের গেরো। মৈনাকই এসেছিল এ কেসের তদন্তে।
মিথ্যা বলতে অনভ্যস্ত রীতালি
যা সত্যি তাই বলেছিল। তবে সূপর্নর নাম সে বলে নি। বলেছিল, মাফ করবেন। নাম বলতে পারবো না।
উল্টে বলেছিল, “আত্মহত্যা করতে যাওয়ার অপরাধ হিসেবে আমাদের সংবিধানে যা যা শাস্তি পাওনা হয়, তাই দিন আমায়। শুধু নামটা জানতে চাইবেন না। ও নামের জন্য এখন ঘেন্না ছাড়া কিছু বেঁচে নেই। “
মৈনাক যা বোঝার বুঝেছিল। সমস্ত বিষয়টা কিভাবে সামলেছিল মৈনাকই জানে।তবে রীতালিকে নিয়ে কোনো টানাপোড়েন আর হয় নি।তবে মৈনাকের সাথে যোগাযোগটা রয়ে গিয়েছিল মৈনাকেরই আগ্রহে। মৈনাকের দূর্বলতাটা বুঝতে পারতো রীতালি। কিন্তু নিজেকে আর দূর্বল হতে দেয়নি।
সময় বয়ে গিয়েছিল।রীতালিরব বাবা চলে গিয়েছিলেন অসময়েই। চলে গিয়েছিল দাদাও। মদের নেশা তার লিভারটাই গ্রাস করেছিল ।
ঠিক এরপরই রীতালির ভাগ্যে জুটে যায় বরদাসুন্দরী উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভূগোল শিক্ষিকার চাকরিটা।
যেদিন চাকরিতে যোগ দেয় রীতালি, সেদিন মৈনাক সব কাজ ফেলে তার সাথে রীতালির স্কুলে গিয়েছিল। রীতালি নিষেধ করলেও শোনে নি। মৈনাকের এই জোরটুকু ভালো লেগেছিল রীতালির।
একদিন নিজেদের প্রাসাদোপম বাড়িতেও নিয়ে এসেছিল রীতালি আর তার মাকে। মৈনাকের মা তার একমাত্র পুত্রের জন্য রীতালিকে চেয়েছিলেন তার মায়ের কাছে।
শুধু রীতালিই হ্যাঁ বলতে পারে নি।
কেটে গিয়েছিল আরও দেড়টা বছর। কিন্তু মৈনাকের বাবা মারা যাওয়ার পর মৈনাকের মায়ের রিক্ত বেশ আর আকূতি দূর্বল করে দিয়েছিল রীতালিকে। বিয়েটা হল অবশেষে।
দেখতে দেখতে সে বিয়ের বয়সও মাস আষ্টেক হয়ে গেল।
মহুয়া মানে মৈনাকের পিসতুতো বোন। তাদের বিয়েতে সে আসতে পারে নি। গর্ভাবস্থার নানা জটিলতার কারনে তখন সে শয্যাশায়ী।
তারপর তার পুত্রলাভের খবরও পেয়েছিল ওরা। মৈনাকের ডিউটির চাপ আর দুজনের ছুটির সমস্যার কারনে মহুয়ার বাড়িতেও যাওয়া হয় নি এই আটমাসের মধ্যে।
রীতালি চমকে উঠেছিল পোস্টে আসা অন্নপ্রাশনের কার্ডে মহুয়ার স্বামী হিসেবে সূপর্নর নামটা দেখে। পরক্ষণেই মনকে সান্ত্বনা দিয়েছিল পৃথিবীতে সূপর্ন চ্যাটার্জী তো হাজার হাজার আছে। এ নিশ্চয়ই সে নয়। তাছাড়া ঠিকানাও তো আলাদা।
কার্ডটা আসার পর মহুয়ার বর সম্পর্কে বহু গল্পই রীতালির শোনা হয়ে গিয়েছিল। শাশুড়ি হাসতে হাসতেই বলেছিলেন, “জামাইটা একেবারেই উচ্ছন্নে যাওয়া। শুধু শ্বশুরের টাকায় ফুর্তি করার মতলব আঁটে! “
তবে এই সূপর্নই যে সেই সূপর্ন সেটা ঘুনাক্ষরেও ভাবে নি।
তখন অবশ্য রীতালি এও জানতো না, সূপর্ন তাদের দুকামরার ভাড়াবাড়ি ছেড়ে বিয়ের পর চলে এসেছিল মহুয়ার বাবার কিনে দেওয়া দু কামরার ফ্ল্যাটে।
চারটে বছর পর রীতালি যখন সূপর্নকে দেখলো , সত্যিই যেন তার হৃদপিন্ডের গতি থমকে গিয়েছিল।
তবে পূর্ব পরিচয়ের কথা গোপন করেছিল দুজনেই।
মহুয়ার নিজের কোনো ভাই না থাকায় পুঁচকেটাকে ভাত খাওয়ালো মৈনাকই।
আর
মামা মামীর সম্মান হিসেবে মৈনাকের হাতে একটা টী শার্ট উপহার দিল সূপর্ন। বঞ্চিত হল না রীতালিও।
রীতালি দেখলো, তার শাড়ি আর
মৈনাকের টীশার্টার গায়ে তখনও জ্বলজ্বল করছে প্রাইসট্যাগটা। প্রাইসট্যাগটা খুলে নিয়ে উপহার দেওয়ার সৌজন্য প্রকাশ করে নি সূপর্ন। হয়তো দামটা দেখানোই ছিল উদ্দেশ্য।
তাই প্রাইসট্যাগটার দিকে তাকিয়ে হেসে ফেলল রীতালি।প্রাইসট্যাগে লেখা ১৪৪৫ এর প্রথমের ১ সংখ্যাটা যে সূপর্নর হাতে লেখা তা বুঝতে একটুও অসুবিধা হল না রীতালির। আসলে চার বছরে হাতের লেখাটার বিশেষ পরিবর্তন হয় নি যে।তার হাসি দেখে সূপর্নও হয়তো বুঝতে পেরেছিল হাসির কারনটা। তাই সে নিজেও তাকিয়েছিল ওই প্রাইসট্যাগটার দিকেই।
আর রীতালির মনে হয়েছিল, প্রাইসট্যাগের ওই ১ সংখ্যাটাই হয়তো রীতালিকে আবারও বুঝিয়ে দিতে চাইছে, সূপর্নর আসল মূল্যটা।
বুকের তলায় সুখ গলেছিল রীতালির। এখন এই শীততাপ নিয়ন্ত্রিত গাড়িতে আধশোয়া হয়ে শুয়ে রীতালি সেই সুখটাই উপভোগ করতে করতে ঈশ্বরকে মনে মনে বলছিল, তোমার ন্যায় বিচারটা দেখানোর জন্যই যে আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছিলে, সেটা আজ বুঝতে পারলাম। তোমার প্রাইসট্যাগে যে দামের হেরফের করা যায় না।” (শেষ)
