অগ্নিকাণ্ডের পিছনে জমি দখল করতে প্রোমোটারের চক্রান্ত দেখছেন ভুক্তভোগীরা

সুপ্রিয় হালদার

মকর সংক্রান্তির আগের দিন সন্ধ্যায় আচমকা এক অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত হয়ে গেল বাগবাজারের মা-এর বাড়ির অদূরে হাজারহাত বস্তি। বস্তির প্রায় ৬০টি পরিবার এই শীতের দিনে কার্যত সহায়সম্বলহীন হল। যদিও সরকারিভাবে তাদের পাশে থাকাত অঙ্গীকার করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী এলাকায় এসে দেখেছেন। কিন্তু মন্ত্রী সাধন পাণ্ডের ভিন্ন কথা। কলকাতার একাধিক বস্তিতে অতীতে আগুনলাগার পর দেখা গেছে কোন প্রতিশ্রুতিই সেভাবে কাজে আসেনি। ১৩ জানুয়ারির অগ্নিকাণ্ডে হাজারহাত বস্তির সঙ্গে পুড়ে গেছে রামকৃষ্ণ মিশনের উদ্বোধন কার্যালয়ের জানলা, কম্পিউটার, বেশ কিছু বই ও নথিপত্র। অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের কোন খবর নেই। তবে কেন আগুন লাগল তার কারণ অনুসন্ধানে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য এসেছে। বিদ্যুতের সর্টসার্কিট, রান্না করতে গিয়ে আগুন, শীতের দিনে আগুন পোহানোর তথ্য ছাপিয়ে উঠে এসেছে প্রমোটারদের ‘ম্যানমেড’ আগুনের তত্ত্ব। স্বাভাবিকভাবেই তার সঙ্গ থাকছে শাসকদলের যোগসাজশের অভিযোগ। ভুক্তভোগী সর্বস্বহারানো বস্তিবাসীরা অভিযোগ করেছেন, সেই কারণেই খবর দেওয়ার প্রায় ৪৫ মিনিট পরে দমকল আসে। আগুন নেভাতে জলাভাবের গল্প দেওয়া হয়। অথচ অদূরেই রয়েছে বাগবাজার খাল। সেখান থেকে জল রিলে সিস্টেমে আনার চেষ্টাই করা হল না। দমকলের ডিজি জগমোহন যদিও দেরিতে পৌঁছানোর কথা অস্বীকার করেছেন। এমন অভিযোগ থাকেই। কেন আগুন তার ফরেনসিক পরীক্ষা হবে বলেও জানান তিনি। মন্ত্রী ডা. শশী পাঁজা ঘটনার পরদিন এলাকায় খাবার পরিবেশন করেছেন ভুক্তভোগীদের।
পৌনে সাতটা নাগাদ হঠাৎই আগুন লাগে হাজারহাত বস্তিতে। দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে আগুন। বস্তির বিভিন্ন বাড়িতে রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারগুলি পরপর বোমার মত ফাটতে থাকে। উইমেন্স কলেজের পিছনে এই বস্তির আগুন উত্তুরে হাওয়ার দাপটে লেলিহান হয়ে দক্ষিণে ছড়াতে থাকে। বড় কোন ক্ষতি না হলেও আগুনে শিখা ও উত্তাপে ক্ষতিগ্রস্থ হয় কলেজ বাড়ির দেওয়াল, জানলা। ক্ষতি হয় উদ্বোধন কার্যালয়ের। আগুন যত বেড়েছে, পাল্লা দিয়ে বেড়েছে স্থানীয় মানুষের বিক্ষোভ। দমকলের বেশ কয়েকটি গাড়িতে ভাঙচুর করা হয়। পুলিশের বিশাল বাহিনী এবং আর.এ.এফ ছুটে আসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। বস্তিবাসীর বিরুদ্ধেও শোনা গেল বহু অভিযোগ। রাতারাতি এখানে অনেকেই বেআইনিভাবে একতলা বাড়িকে দোতলা করে নিয়েছে। কোন নিয়মনীতির বালাই নেই। ঘিঞ্জি এলাকা বলে দমকলও ঢুকতে পারেনি। পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের এই এলাকায় বস্তিবাসীদের স্বাস্থ্যকর নিরাপদ জায়গায় যেতে বলা হলেও তারা কর্ণপাত করেনি। কিছুদিন আগেই এই বস্তিতে করোনার প্রকোপ দেখা গেলেও অসুস্থ মানুষকে চিহ্নিত করে সরিয়ে আনা যায়নি। স্থানীয় ওয়ার্ডের কো-অর্ডিনেটর বাপী ঘোষ যখন এইসব বলছেন, তখনই বস্তিবাসীরা পাল্টা বলেন, তাদের উচ্ছেদ করে প্রোমোটার দিয়ে বহুতল বানানোর ষড়যন্ত্র বহুদিন ধরেই চলছে। আগুন লাগানো, না লাগানো হলো, সেটা তাই ভাবতে হবে। তাঁরা কেউই অন্যত্র কোন শিবিরে যেতে চাইছেন না। সকলেরই আশঙ্কা একবার বেঘর করা হলে আর এই জমিতে ফেরা যাবে না। তাদের স্থায়ীভাবে তুলেই দেওয়া হবে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী যদিও সেই সম্ভাবনার কথা উড়িয়ে দিয়েছেন। বলেছেন, যে যেখানে ছিল সেখানেই বড়ি করে দেওয়া হবে।

Leave a comment