ডায়মন্ডহারবারে নিজের নির্বাচনি কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে ক-দিন আগেই সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, যারা বলছে ভাইপো পাচারকারী তারা একটা প্রমাণ দিক মুক্ত ফাঁসির মঞ্চে প্রাণ বিসর্জন দেব। বরং খবরের কাগজে মুড়ে টাকা নিতে দেখা গেছে যাকে সে আজ বড় সাধু। শুভেন্দু অধিকারীর নাম না বলেও ইঙ্গিতটাই স্পষ্ট। এদিকে এর পাল্টা তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে আসা শুভেন্দু অধিকারী ঠারে ঠারে বুঝিয়ে দিচ্ছেন। ভাইপোকে তোলাবাজ বলার পর তিনি নতুন ছড়া বেঁধেছেন— লাল চুল কানে দুল, তার নাম তৃণমূল। এই ইঙ্গিতটাও আমজনতার কাছে পরিষ্কার। কয়লা, গরু, বালি পাচার কাণ্ডে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা জড়িত সন্দেহে ব্যবসায়ী বিনয় মিশ্রকে খুঁজছে সিবিআই। তার চেতলা, কালীঘাট-এর বাড়ি-সহ বেশ কয়েকটি সম্ভাব্য আস্তানায় রেড হয়েছে। বাজেয়াপ্ত হয়েছে কটা ল্যাপটপ, কম্পিউটার-এর হার্ড ডিস্ক। এমনকি ১২ জানুয়ারির মধ্যে তাকে সিবিআই দফতরে হাজিরা দেওয়ার নোটিশ জারি করা হয়েছে। এই বিনয় মিশ্র তৃণমূল যুব কংগ্রেসের একজন শীর্ষ নেতা। ভোটের আগে জেলায় জেলায় বিশেষ করে জঙ্গলমহলে টাকার বিনিময়ে টিকিট পাইয়ে দেওয়ার বেশ কিছু অভিযোগ উঠে। শীর্ষ তৃণমূল নেতৃত্বকে জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। সেই বিনয় মিশ্র সিবিআই-এর নাগাল এড়াতে পলাতক। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, এ হল যুবা নেতা। সিবিআই খুঁজছে। ধরতে পারলেই আর একটা চৌকাঠ পেরিয়েই ভাই-পো।
এদিকে কয়লা-গরু পাচার কাণ্ডে জড়িত সন্দেহে রাজ্যের ৬ জন পুলিশকর্তার ডাক পড়েছে সিবিআই দফতরে। গরু পাচারের আসল নায়ক এনামুল ওরফে খুদু-র সঙ্গে অনেক পুলিশকর্তা ও নিচুতলার কর্মচারীদের যোগাযোগ ছিল বলে জানতে পেরেছে সিবিআই। তাছাড়া গরু পাচারে শুল্ক দফতরের কয়েকজন অফিসারও এনামুলকে সাহায্য করতো। সেই সঙ্গে এটাও সিবিআই জেনেছে যে রাজ্য প্রশাসনকে হাতে রেখে তাঁর রমরমা পাচার ব্যবসা চালাতে এনামুল শাসকদলের নেতার সাহায্য পেয়ে যাচ্ছিলো। সেই সাহায্য প্রাপ্তির সেতুটা ছিল বিনয় মিশ্র। তাই বিনয় মিশ্র ধরা পড়লেই জিজ্ঞাসাবাদে বহু রথী-মহারথীর নাম বেরিয়ে পড়বে। বেরিয়ে পড়বে পুলিশ এবং শুল্ক দফতরের চেয়ারবাবুদের বহু কীর্তি।
