মেদিনীপুর থেকে হুগলি হয়ে হাওড়া – দলছাড়ার হিড়িকে এবার নাম মন্ত্রী লক্ষ্মীরতন শুক্লা

সুপ্রিয় হালদার
রাজ্যের ক্রীড়া দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী তথা হাওড়া জেলা (সদর)-এর তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি প্রাক্তন ক্রিকেটার লক্ষ্মীরতন শুক্লা ৫ জানুয়ারি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়ে তাঁর মন্ত্রীত্ব এবং সমস্ত দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে বসলেন। তবে বিধায়ক হিসেবে তিনি পূর্ণ সময় থাকতে চান। আর ২-৩ মাস পরেই বিধানসভার নির্বাচনি দামামা বেজে যাবে। এই অবস্থায় লক্ষ্মীরতনের মন্ত্রীত্ব এবং দলীয় পদ ছেড়ে দেওয়াটা অনেকেই সাদা চোখে দেখছেন না। তাহলে কি শুভেন্দু অধিকারীর প্রদর্শিত পথেই এবার আরও এক মন্ত্রী? জল্পনাটা শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগপত্রটি পেয়ে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়কে পাঠিয়ে দিয়েছেন। তিনি এও বলেন, লক্ষ্মী ভালো ছেলে। ও ক্রিকেট জীবনেই ফিরতে চায় বলেই অব্যাহতি চেয়েছে। মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দিতেই পারে। কিন্তু এই সরকারি বক্তব্যটাই যথেষ্ট কিনা কাটাছেঁড়া শুরু হয়েছে তাই নিয়ে। বিশেষ করে হাওড়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের অরূপ রায় গোষ্ঠীর সঙ্গে অনেকেই মানিয়ে চলতে পারছেন না বা চাইছেন না। মন্ত্রী অরূপ রায় নিজেই বলেছেন, ভোটের আগে এইভাবে দলত্যাগ-পদত্যাগ করাটা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সেনাপতির পালিয়ে যাওয়া। অন্যদিকে লক্ষ্মীরতনের ঘনিষ্ঠরা বলছেন, প্রায় সাড়ে চার বছর ক্রীড়া দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী করে রাখা হলেও কার্যত কাঠের পুতুল বানিয়ে দেওয়া হয়েছিল এই ক্রিকেটার মন্ত্রীকে। কোন কাজ করতে দেওয়া হচ্ছিল না। ফাইলপত্র কিছুই দেখতে দেওয়া হত না। এই অবস্থা কোন আত্মমর্যাদাসম্পন্ন মানুষ দিনের পর দিন মেনে চলতে পারে না। তাই ও ছেড়ে দিল। লক্ষ্মীরতন নিজে অবশ্য একটা কথাও বলেননি। তিনি কি বিজেপিতে যাচ্ছেন? এমন প্রশ্নেরও কোন উত্তর দেননি। হাওড়ায় যে বাড়িতে তিনি থাকেন, সেই বাড়ির ফ্ল্যাটের দরজায় তালা মারা। কোন ফোনও ধরেননি।
লক্ষ্মীরতনের দলত্যাগ-পদত্যাগের পর কিন্তু মুখ খুলেছেন হাওড়ার বালির বিধায়ক বৈশালী ডালমিয়া। প্রখ্যাত ক্রিকেট প্রশাসক জগমোহন ডালমিয়ার মেয়ে বৈশালীর সঙ্গে ক্রিকেট জগতের অনেকেরই পরিচয় আছে। এই ঘটনাকে তিনি যেভাবে দেখছেন— দলের মধ্যে একশ্রেণির লোক যারা কাজের লোকদের হেনস্থা করছে, কাজ করতে দিচ্ছে না। অন্যদের যারা বিশ্বাসঘাতক বলছে আসলে তারাই উইপোকার মত দলের সর্বনাশ করে চলেছে। এরাই বিশ্বাসঘাতক। এই সব অনিয়ম নিয়ে রাজ্য নেতৃত্বকে বারবার জানিয়েও যে কোন ফল হয়নি— সেটাও তাঁর বক্তব্যে পরিষ্কার। প্রায় একই সুরে জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বের প্রতি সমালোচনায় মুখর হয়েছেন হাওড়ার প্রাক্তন মেয়র প্রখ্যাত চিকিৎসক ভোলানাথ চক্রবর্তীর পুত্র ডা. রথীন চক্রবর্তী। সবমিলিয়ে মেদিনীপুরের মাটি থেকে যে তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগের হাওয়া উঠেছে তাতে ইতিমধ্যেই কাঁথি পৌরসভা হাতছাড়া হয়েছে। হুগলির সিঙ্গুরে বেসুরো কণ্ঠ শোনা গেছে প্রবীণ তৃণমূল নেতা মাস্টারমশাই রবীন্দ্রনাথ বাবুর গলায়। এবার সেই ঝড় কি হাওড়াতেও জোড়াফুল শিবিরে ধাক্কা দিতে চাইছে? এমন রাজনৈতিক প্রশ্ন ওঠা খুবই স্বাভাবিক।

Leave a comment