মামন জাফরান ।।

arpitahalder6170@gmail.com
বয়স : ৩৩
উচ্চতা : ৫’২’’
ওজন : ৫২ কেজি
স্ক্রিন টোন : ফেয়ার
বেলি : ৩২
হিপ : ৩৬
চোখ : ডার্ক ব্রাউন
চুল : ব্রাউন
কাপ : ৩২
বেশ ভালো স্ট্যাটিসটিক্স। মডেল হিসেবেও কলকাতা তো বটেই, এই মুহূর্তে উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড এবং দিল্লিতেও ছবি শিকারীদের রীতিমতো নাড়িয়ে দিয়েছে সল্টলেক এর বাসিন্দা অর্পিতা। অর্পিতার জন্ম কলকাতায়, বাবা সুনীল কুমার রায় ও মা অর্চনা রায় থাকতেন কসবায়। তাঁদের দুই কন্যাসন্তান এর মধ্যে অর্পিতার জন্ম শিশুমঙ্গল হাসপাতালে। এরপর কর্মসূত্রে বাবা সপরিবারে চলে যান দুর্গাপুরে। সেখানে দুর্গাপুর গভর্নমেন্ট স্পনসর গার্লস হাই স্কুলে পড়াশোনা করে অর্পিতা। ১২ ক্লাস পাশ করে সেখান থেকেই ২০০৫-এ। সুন্দরী বলে ক্লাস সেভেন থেকেই দুর্গাপুর জুড়ে অর্পিতা অনেক যুবকেরই হার্টথ্রব ছিল। প্রেম আসে অনিবার্য নিয়মেই। ১২ ক্লাস শেষ করার পরে ২০০৭ এই প্রেমে হাবুডুবু খেয়ে বিয়ে হয়ে যায় বিশ্বনাথ হালদারের সঙ্গে। তারপর থেকে পুরোদস্তুর স্বামী এবং ছেলে-মেয়ে-শ্বশুর-শাশুড়ি নিয়ে তাঁর ভরা সংসার। কথায় কথায় অর্পিতা জানালো, মডেলিং-এ আসব একথা স্বপ্নেও ভাবিনি। কি করে যে কি হল, সবই ঈশ্বরের ইচ্ছা। অর্পিতা ঈশ্বর বিশ্বাসী। নিয়মিত পুজোপাঠ করে। শ্বশুরবাড়ির কুলগুরুর কাছে বিষ্ণুমন্ত্রে দীক্ষা নিয়েছে। রোজ জপ, আহ্নিক করে, আবার সংসারও সামলায়।
পুরোদস্তুর ঘরণী হয়ে মডেলিং-এ এলে কি করে? অর্পিতা জানালো, কি জানি, কোন দিন গ্রুমিং কাকে বলে, ইত্যাদি জানিই না। জিম গিয়ে নিয়মিত বডি ফিট রাখাও ছিল না। তাও মডেলিং-এ এসে পড়লাম বলতে পারেন। আমার এক অত্যন্ত প্রিয় বান্ধবী প্রিয়াঙ্কা অধিকারী এর জন্য দায়ী। ও মেকআপ আর্টিস্ট। ও আমায় প্রয়াই বলতো, চল তোকে ব্রাইডাল মেকআপে সাজাবো। অনেকদিন পাত্তা না দিতে দিতে একদিন রাজি হয়ে গেলাম, নিমরাজি বলতে পারেন। ২০১৯-এ ল্যাকমে ব্রাইডাল মেকআপ কনটেস্ট হল। প্রিয়াঙ্কার বর ভালো ফটোগ্রাফার। সে মেকআপ এর পরে আমার কটা ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করে দিল। ব্যাস, সেই শুরু। ছবিগুলো দেখেই একের পর এক অফার আসতে লাগলো। এমন অবস্থা হলো যে শ্যাম রাখি না কূল রাখি। মেয়ে সমর্পিতা ক্লাস নাইনে পড়ে, আগামী বছর বড় পরীক্ষা আসছে। ছেলে স্বপ্ননীল ছোটো। তাদের দেখাশোনা আছে। শ্বশুর-শাশুড়ি দুজনেই বয়স্ক, অসুস্থও। তাদের দেখতে হয়। আমার স্বামীর ওড়িশায় মাছের ভেড়ি আছে, চিংড়ি মাছ এক্সপোর্ট হয়। ও কিছুদিন একটু অসুস্থ। তাই প্রায়শই কলকাতা থেকে গাড়ি নিয়ে আমাকেই ওড়িশা ছুটতে হয়। এদিকে মডেলিং এবং ছবিতে অভিনয়েরও অফারগুলো পর পর আসছে। মুম্বাই থেকেই এক প্রযোজক যোগাযোগ করেন। ঘর-পরিবার-ব্যবসা— এগুলো একদম ছেড়ে দেওয়া সম্ভব নয়, আবার যে সব অফার আসছে তা অনেকে মাথা খুড়ওে পায় না। অথচ মডেলিং-এ আসব এমন কোনওদিন ভাবিনি। আমি খুবই কনজারভেটিভ বাড়ির মেয়ে। বাড়ির কেউ মডেলিং করা পছন্দও করতো না,এখন একটু পরিচিত হতে অবশ্য তাঁরা মেনে নিয়েছে। সময়টাও তো রোজ বদলাচ্ছে।
কি কি কাজ করেছে? অর্পিতার সোজাসাপটা উত্তর, প্রিয়াঙ্কার মেকআপ এবং ওর হাজব্যান্ড-এর তোলা সেই ছবি দেখেই আমার অফার আসা এবং কাজ পাওয়ার শুরু। সবই প্রায় ২০১৯ থেকে। ২০২০টা তো বন্ধ বন্ধ করেই কেটে গেল। ওই ছবি দেখে এফবিবি-র ইন্দ্রাণীদি আমায় কনট্যাক্ট করেন। ইনি একজন মডেল সিলেক্টার অ্যান্ড কো-অর্ডিনেটার। তারপর কাজ এল অঞ্জলী জুয়েলার্স-এর মডেল হবার। আমি সত্যি ভাবতেই পারিনি, এত এত সুন্দরী থাকতে আমায় এই অফার দেওয়া হল। সেটা করতেই হইচই পড়ে গেল। কে অর্পিতা? খুঁজতে শুরু হল। এর মধ্যে একটা র্যাম্প শো হয় ২০১৯ এই, রক অ্যান্ড ওয়াক। জীবনে র্যাম্প করিনি। মনের জোরে করে ফেললাম। হাততালির বন্যা বয়ে গেল। তারপর পুজোর সময় স্পট লাইট কলকাতার অরিজিৎ দাস ডাকলেন, ডাক এল প্রোডিকক্স থেকে। একাধিক ক্যালেন্ডার, ব্যানার শ্যুট করেছি। কিন্তু সত্যি কথা বলতে মডেলিং আমার ফ্রিল্যান্স আয়ের উৎস ঠিকই, কিন্তু এর জন্য ঘর সংসার ছেলে-মেয়ের প্রতি অবহেলা আমার পোষাবে না। তাই অনেক অফার ছেড়েও দিয়েছি। আমার তো ভাতকাপড়ের টানাটানি নেই যে মডেলিং এর কাজ না পেলে খেতে পাবো না। তাই হয়তো এইভাবে ভাবতে পেরেছি এবং আজও পারছি। কিন্তু আমি এটাও জানি, অনেকেই সেটা পারে না। পেটের জ্বালা, সংসারের অভাবটা অনেককেই নামিয়ে আনে। ঈশ্বর ভরসা, আমার অন্তত সেই প্রবলেমটা নেই। এটাই রক্ষা।
মডেলিং-এ নাম করে অনেকেই দেখেছি ছবির জগতে পা রাখতে, অভিনয়ে চলে যেতে। কারণ, সব মডেলই জানে যে এই পেশার আয়ু ৫ থেকে ৭ বছর মাত্র। তারপর খুব কম মডেলই টিকে থাকতে পারে। বয়সের ধাক্কা সবাইকেই সইতে হয়। অর্পিতা সম্পূর্ণ একমত হয়ে জানালো, খুব সত্যি কথা। আজ আমি যা, কাল আমি তা থাকবো না। আজ যা পাচ্ছি তাও যেমন ঈশ্বরের দান, কাল যেটা পাব সেটাও তাই। উত্থান-পতন জীবনের অনিবার্য গতি। ওই যে বলছিলেন অভিনয়, ছবির জগতে যাওয়া— হ্যাঁ, অফার এসেছে, মুম্বাই থেকেও একজন যোগাযোগ করেছে। কিন্তু ঘর সংসার সামলে কি করবো জানি না। আর কলকাতায় শর্টফিল্মে ফিচার ফিল্মে ডাক এসেছে। কিছু লোকজন ভালো। তাদের সঙ্গে কথাও হয়েছে। ২০২১-এর মাঝামাঝি হয়ত সব ঠিকঠাক হলে কাজগুলো শুরু হবে। আর কিছু আছে মহা বদ, তাদের উদ্দেশ্য ছবি করা, শিল্প করা এসব না স্রেফ মহিলা নিয়ে ফূর্তি। আমায় একবার বাঘাযতীনে ছবিতে কাজের জন্য একজন ডাকলো। গেলাম, ওমা সব কথাবার্তা শেষে বলে কি কম্প্রোমাইজ করতে হবে। সোজা চেয়ার ছেড়ে দাঁড়িয়ে বেরিয়ে এসেছি। এই ধরনের লোকজনের সংখ্যা কিন্তু অনেক। তা সাবধানে পা ফেলতে হয়। কিছু মডেল-অভিনেত্রী অবশ্য আছে যাদের কাজ পাওয়াটাই সব, তাতে কি দিতে হল তা বয়েই গেল। কিন্তু আমি সে বান্দা নই দাদা— আমায় ঈশ্বর যা দিয়েছেন, না চাইতেই দিয়েছেন— ছপ্পর ফাড়কে।

