চন্দ্রাণী সাধুখাঁ (বিশ্বাস)
আগে অফিস থেকে ফিরে ঘন্টা খানেক পাড়ার ক্লাবে সময় কাটাতো অলক। এখন সেটাও বন্ধ। সেও রত্নার কারনে। ক্লাবে বন্ধুদের সাথে গল্পগুজব ছাড়াও অলকের তাস খেলার নেশা ছিল প্রবল। ওই তাস খেলার টানেই সে ঝড়বৃষ্টি উপেক্ষা করেই প্রতিদিন ক্লাবে ছুটতো। মাঝে মাঝে খাওয়াদাওয়াও হত। এ রকমই এক দিনে খাওয়ার সাথে পানীয়ও যোগ হয়েছিল। অলক মদ্যপানে অভ্যস্ত নয় কিন্তু শুচিবাইও নেই। সেদিন কি মনে হতে অলকও পানীয়র আসরে যোগ দিয়েছিল। কিন্তু বাড়ি ফেরার পর শুরু হয়েছিল অনবরত বমি। অলকের হুঁশ ছিল না কি ঘটছে। রত্নাই সে সব পরিস্কার করে, সাথে কান্নাকাটি। সেদিন বাবা মা-ও রত্নার পাশে দাঁড়িয়েছিল। পরদিন অলক অফিস যেতেও পারে নি। ব্যাস রত্নার ফরমান জারি হয়েছিল, ক্লাবে আর নয়। চাঁদাটাঁদা যা দেওয়ার দেবে কিন্তু ক্লাবে আর যাওয়া যাবে না। বন্ধুরাও রত্নাকে বুঝিয়েছিল। কিন্তু রত্নার সেই এক গোঁ। তাস খেলাটাই যদি আসল হয়, তাদের বাড়িতেই তাসের আসর বসুক। কিন্তু ক্লাবে নয়। বন্ধুরা অপমানিত বোধ করেছিল। অলক জেদ করে তার পরেও দু একদিন ক্লাবে গিয়েছিল কিন্তু বন্ধুরাও তাকে এড়িয়ে যাচ্ছে বুঝতে পেরেছিল। অবশেষে তার ক্লাবে যাওয়াটা বন্ধই হয়ে গিয়েছিল।
তারপর থেকে অফিস আর বাড়ি -বাড়ি আর অফিস, এই আবর্তেই কাটে অলকের দিন। অন্যরকম হলেই সেটা আর সুদিন থাকে না।
অফিসে পৌঁছে তড়িঘড়ি রত্নাকে ফোন করে জানালো, সে পৌঁছে গেছে। রত্নাও সেই বাঁধা গতে বিস্কুট জলের খবর দিল। তারপর অলক মন দিল নিজের কাজে। লাঞ্চব্রেকে মধুর ফোন এলো। দেখা হয় না। তবে মধু মাঝে মধ্যেই ফোন করে। আজও অনেকক্ষণ বকবক করলো। অভিযোগ করলো, অলক তাকে একদম ফোন করে না। অলক সত্যি কথাটা বলতে পারে না। বলে, ‘সময় পাই না রে!’ আসল কথাটা হল, অলক ভয় পায় মধুকে ফোন করতে। রত্না যদি জানতে পারে? -এই ভয়টাই ওকে ফোন করতে বাধা দেয়।
বহুদিন আগে, তখনও অরিনার বিয়ে হয়নি। অফিসের কাজে কলকাতা গিয়েছিল অলক। সেদিন আবার রত্নার খুব জ্বর। তবুও জ্বরগায়েই রান্নাবান্না সবই করেছে। সব কিছু হাতের কাছে গুছিয়েও দিয়েছে। প্রথম প্রথম অলক রত্নাকে অসুস্থ শরীরে কাজ করতে বারন করতো। কিন্তু রত্না শুনতো না।
উল্টে বলতো, ‘একে তো আয় করতে পারি না, তার উপর শরীর খারাপ বলে শুয়ে থাকব? হয় না কি? যেদিন শোবো একেবারেই শোবো।’’
দিদির সেই কথার প্রতিশোধ চলে আসছে এত বছর ধরে। তাই এখন আর অলক কিছুই বলে না। তাই রত্নাকে অসুস্থ দেখেও বেরিয়ে পড়েছিল। অফিসের কাজ মিটতে বেশি সময় লাগে না। কি মনে হতে মধুছন্দাকে ফোন করে অলক। ফোনে কথা তো হতই। কলকাতা এলে দেখা করার প্রতিশ্রুতিও বিনিময় হত। মধু উচ্ছ্বসিত হয়। অলক যেখানে গিয়েছিল, মধুর ফ্ল্যাট সেখান থেকে বেশি দূরে নয়। তাই সেখানে যেতে অলকের কোনো অসুবিধাও হল না। ঘটনাচক্রে সেদিন মধুর বর আর ছেলেও বাড়িতে। আগেই আলাপ হয়েছিল তাই আড্ডা জমে উঠতে দেরি হল না। কলেজ জীবনের পুরোনো কথা, খুনসুটি মনে করে ওরা অতীতটা ছুঁয়ে দেখছিল। আবার মধুর ছেলেও তার স্কুল -কলেজের গল্প বলে বর্তমানে ফিরিয়ে আনছিল। মধু যে সুখী সেটা অলক বুঝতে পারছিল। মনে মনে চাইছিল, মধু আরও সুখে থাকুক।
কথায় কথায় যে দিন গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমেছিল কেউই খেয়াল করেনি। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে অলক চঞ্চল হয়ে উঠেছিল। ট্রেন পেলে হয়! মধুর বর অনেক অনুরোধ করেছিল, রাতটুকু থেকে যাওয়ার জন্য। কিন্তু বাড়ি না ফিরলে যে তার বাড়িতে মহাপ্রলয় বাঁধবে, সে কথা অলক বলতে পারেনি। এলোমেলো কিছু অজুহাত দেখিয়ে বেরিয়ে পড়েছিল।
মধুর বাড়ি থেকে বের হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রবল ঝড়বৃষ্টি শুরু হল। হাওড়া স্টেশন লোকে লোকারন্য। প্রায় এক ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকার পর অলকের ট্রেনের খবর পাওয়া গেল। ইতিমধ্যেই দু-তিনবার রত্না ফোন করেছে। অলক কি বলবে ভেবে না পেয়ে ফোন রিসিভ করে নি। অলক ভাবে, যদি কোনোভাবে মধুর বাড়ি যাওয়ার কথাটা রত্নাকে বলে ফেলে তো অনর্থ শুরু হয়ে যাবে। তাই পরে ধীরে সুস্থে বলবে ভেবে ফোনটা অফ করে দেয়। কিন্তু বিপদ যে অন্যদিক থেকে আসবে ভাবেনি।
অলক যখন বাড়ি ফিরলো ঘড়ির কাঁটা সাড়ে এগারোটা পার করেছে। বাবা, মা, অরিনা খেয়ে শুয়ে পড়েছে। দরজা খোলে রত্নাই। চোখদুটো অস্বাভাবিক লাল।দেখেই বোঝা যাচ্ছে জ্বরে গা পুড়ে যাচ্ছে। কিন্তু শুধুই কি জ্বর? নাকি জ্বর ছাড়াও আরও কিছু?
অলক জিজ্ঞেস করে, “শরীর কেমন?” রত্না উত্তর দেয় না। মুখে একটা বিচিত্র হাসি ফুটে ওঠে। কপালে হাত দিয়ে জ্বর আছে কি না দেখতে যায় অলক। রত্না দ্রুত সরে যায়। বিচিত্র হেসে বলে, “থাক না এসব। আমি ঠিক আছি।”
তারপর বলে, ‘খাবে তো? ‘
–খাব না কেন?
–আমি ভাবলাম, এত রাতে যখন ফিরছো, হয়তো খেয়েই ফিরবে।
— না না তুমি খেতে দাও। কলকাতায় খুব ঝড়বৃষ্টি হয়েছে। হাওড়ায় ট্রেন চলাচলও বন্ধ ছিল। তাই ফিরতে পারি নি। আর দেখো, এদিকে একফোঁটাও বৃষ্টি নেই।
আগ বাড়িয়ে দেরির কারণটা বলে অলক। মধুর বাড়ি যাওয়ার কথাটা খাওয়ার পর বলবে ঠিক করে। অলক কিন্তু রত্নাকে কোনো কিছুই লুকোয় না। তবুও কেন যে এত দূরত্ব হয়ে যাচ্ছে! রত্না যদি ঝগড়া করতো, তর্ক করতো -কথা ছিল। একদম চুপ হয়ে যায় আর একটাই কথা, ‘সরি আমার ভুল হয়ে গেছে।’
খেতে বসে অলক দেখলো টেবিলে তার খাবারটুকুই দেওয়া হয়েছে। রত্না অলককে ফেলে কোনোদিনই আগে খেয়ে নেয় না। তাই রত্না খাবে কি না জিজ্ঞেস করতে যায় অলক। কিন্তু তার আগেই কর্কশ স্বরে বেজে ওঠে ল্যান্ডলাইন ফোনটা। রত্না দ্রুত গিয়ে ফোন ধরে। বলে ওঠে, “হ্যাঁ মধু, ও ফিরেছে। খেতে বসেছে। ওকে দেব ফোনটা?”
অলকের শিরদাঁড়া বেয়ে একটা ঠান্ডা স্রোত বয়ে যায়। কপালে জমতে থাকে বিন্দু বিন্দু ঘাম।কথা শেষ করে রত্না ফিরে আসে অলকের পাশে। খুব স্বাভাবিক গলায়, ভাত লাগবে কি না, আর এক পিস মাছ খাবে কিনা জিজ্ঞেস করতে লাগলো। অলক ঘাড় নেড়ে ‘না’ বলে। খাওয়ার স্পৃহাটাই চলে গিয়েছিল উত্তেজনায়। আর সেটা অলক বেশিক্ষণ বইতেও পারলো না। সব বুঝেও হাত ধুতে ধুতে প্রশ্ন করলো — ‘এত রাতে কে ফোন করেছিল গো?’
টেবিল থেকে এঁটো বাসনপত্র তুলতে তুলতে নিস্পৃহ গলায় রত্না উত্তর দেয়, ‘মধুছন্দা! তুমি ঠিকঠাক ফিরেছো কিনা জানতে চাইছিল। তুমি ফেরার আগেও দুবার ফোন করেছিল। তোমার নাকি মোবাইল অফ করা আছে! ‘
রত্নার নিরুত্তাপ গলা অলককে বলে দেয়, ‘সাবধান ঝড় আসছে কিন্তু।” রত্নার না খাওয়ার কারণটাও স্পষ্ট হয়ে যায়। মধুর উপর খুব রাগ হয়ে যায়। কি প্রয়োজন ছিল ফোন করার। এখন রত্নাকে কি ভাবে সামলাবে সেটাই বুঝতে পারে না। দোতলায় নিজের ঘরে গিয়ে একটা সিগারেট ধরিয়ে রত্নার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে।
নারী পুরুষের মধ্যেও যে নিখাদ একটা বন্ধুত্ব হতে পারে, সেটা কি ভাবে রত্নাকে বোঝাবে সেটা ভেবে পায় না অলক। চাপা উত্তেজনায় সে ছটফট করতে থাকে। কিন্তু রত্না ঘরে আসে না। প্রতি রাতেই খাওয়ার পর রান্নাঘর মুছে, খাওয়ার টেবিল পরিস্কার করে, গা ধুয়ে তবেই রত্না শুতে আসে। কিন্তু আজ যেন অন্যদিনের তুলনায় একটু বেশিই দেরি করছে। মধু আর রত্নার মধ্যে কি কি কথা হয়েছে তা জানার কৌতুহল ক্রমাগত অলককে খোঁচা দিতে থাকে। একসময় চোখের পাতা ভারী হয়ে বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু রত্না আসে না।
তার পরের দুদিন রত্না অস্বাভাবিক চুপ। প্রয়োজন ছাড়া কথা নেই। অলক তাকে একলা পাচ্ছেও না যে এ প্রসঙ্গে কথা বলবে। অবশেষে সুযোগ মেলে। দিদিরা আসে। তাদের সামনে রত্না আর মেয়ের ঘরে শুতে যায় না। অলক দেরি করে না। সেদিনের প্রসঙ্গে কথা শুরু করে জেনে নেয় মধুর সাথে রত্নার ঠিক কি কি কথা হয়েছে। অলকের ফোন অফ থাকার কারণে মধু বার দুয়েক ফোন করেছিল, অলক নিরাপদে ফিরেছে কি জানার জন্য। রত্না তখনই সব জেনে যায়, অলক কখন গেছে, কখন ফিরেছে বা দেরি হচ্ছে কেন? রত্না অলকের কাছে লুকোনোর চেষ্টা করে নি যে, সে কষ্ট পেয়েছে। কিন্ত মধুকে সে কিছুই বলে নি। অলক তাকে বোঝানোর মরিয়া চেষ্টা করে কিন্তু রত্না ঠান্ডা কঠিন গলায় বলে, ‘থাক না এসব কথা। আমি তোমাদের কিছুই তো বলি নি। সেদিন আমার জ্বর হয়েছিল তাই ভেবেছিলাম তুমি হয়তো তাড়াতাড়ি চলে আসবে। হয়তো আমার চাওয়াটা বা ভাবাটাই ভুল ছিল। আমার ফোনও ধরো নি। উল্টে ফোন অফ করে দিয়েছিলে। হয়তো আমার ফোন তোমাকে বিরক্ত করছিল। আমি জানি, মধু তোমাকে ভালোবাসে। আর স্বীকার করো বা না করো এ সত্যি তুমিও জানো। তবে মধুর ভালোবাসা নিষ্পাপ। তাই আমি ওকে ঈর্ষা করতেও পারি না। অপমানও নয়। ও যে সুজাতা নয়। ‘’
অলক কথা হারিয়ে ফেলে। রত্না মধুর দূর্বলতা টের পেল কি করে? মেয়েলি ঈর্ষা নাকি অতীন্দ্রিয় কোনো অনুভূতি? রত্নাকে খুব অচেনা মনে হয়, তাই কাছে টেনে নিতে গিয়েও থমকে যায় অলক।
সেদিন আর কোনো কথা হয়নি এ নিয়ে। আসলে রত্নার বলার ভঙ্গীটাই এমন যে মনে হয়, সে শেষ কথাটাই বলে দিচ্ছে। সে বিষয়ে আর কোনো কথা হবে না। অলকের রাগ হয়ে যায় বারে বারে। কিন্তু হাজার চেষ্টা করলেও রত্না যে নিজের জায়গা থেকে একচুলও নড়বে না সেটা এই ক ‘বছরের অভিজ্ঞতায় অলক বুঝে গেছে। কোথায় কোনো ছন্দপতন নয়, রান্না, খাওয়া, ঘর গুছোনো এমন কি বাড়িতে আসা মানুষজনের সাথে হাসিঠাট্টা সবই চলছে, শুধু অলকের মুখোমুখি হলেই সে গম্ভীর। কোনো কথা না বলে নিজের পছন্দ অপছন্দ বুঝিয়ে দেওয়ার আশ্চর্য ক্ষমতা আছে রত্নার। বাড়ির দমবন্ধ হয়ে আসা পরিবেশটা অলকের বুকে পাথরের মত চেপে বসতে থাকে। প্রতি মুহুর্তে বুক চিরে দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসতে থাকে, ‘আর কতদিন? মুক্তি আসবে কবে? ‘’
দিদিরা এসে সপ্তাহ খানেক রইল। এখন ওরা এলে অলক গল্পগুজব করে ঠিকই কিন্তু সতর্ক ভাবে এড়িয়ে যায় রত্নার প্রসঙ্গ। রত্না নির্বিকার। আগের মতইই যত্নআত্তি করে। তবে ওদের গল্পের আসরে যোগ দেয় না। ওই ক দিন যেন নিজেকে রান্নাঘরে আটকে ফেলে। এখন অবশ্য আর রত্নার সম্বন্ধে কোনো সমালোচনা হয় না। ও যে ভালো বউয়ের সার্টিফিকেটটা পেয়ে গেছে ততদিনে।
সেদিনের পর থেকে নতুন এক উপসর্গ শুরু হয়েছে। আগে শরীর টরীর খারাপ হলে বিশ্রাম নিত না বটে কিন্তু ওষুধপত্রটা খেত। এখন সেটাও বন্ধ করে দিয়েছে। অলক দু একবার বলতে গেলে, রত্না ঠোঁটের কোনে হেসে সেই ঠান্ডা কঠিন গলায় বলেছে, ‘ আমার জন্য ভেবো না। ওষুধ না খেলেও আমি ঠিক সুস্থ হয়ে যাব। “ তারপর কাচভাঙা হাসি হেসে বলেছে, “ এত সহজে মুক্তি নেই গো তোমার? যদি মরেও যাই তো, ভূত হয়ে ঘাড়ে চেপে থাকবো জেনো! “
পরিস্থিতি একটু অনুকূল দেখে অলক বোঝাতে চেষ্টা করে।
রত্না সেই একই ভাবে বলে, ‘আমাকে নিয়ে টেনশন দেখানোর কোনো প্রয়োজন নেই গো! সত্যিই যদি তোমার চিন্তা থাকতো তাহলে আমাকে অসুস্থ দেখেও কি মধুছন্দার বাড়ি যেতে? তুমি তো তাড়াতাড়ি বাড়ি ফেরার কথাই ভাবতে তাই না? “
অলক কিছু বলতে পারে না। অথচ রত্না যা বলছে সেটাও তো সত্যি নয়!
–আমি সত্যিটা বুঝে গেছি। আমার কোনো প্রত্যাশা নেই, নেই অভিযোগও – সেই শেষ কথা বলার ভঙ্গিতেই কথাগুলো বলে ঘর থেকে বেরিয়ে যায় রত্না।
আর নিজের রগদুটো চেপে চোখ বন্ধ করে বিছানায় বসে পড়ে অলক। কারোকে বলা যায় না, ফেলেও দেওয়া যায় না, এমন এক সম্পর্ককে নিয়েই বয়ে চলে অলকের প্রাত্যহিক জীবন। রত্নার দায়িত্ব কর্তব্যে কোনো ত্রুটি নেই। কিন্তু অলক যেন ওর হাতের পুতুল। সব যেন রত্নার হাতের সূতোয় নিয়ন্ত্রিত। একটা অপমানবোধ, কষ্ট, যন্ত্রণা দীর্ঘশ্বাস হয়ে বুক খালি করে বেরিয়ে আসতে চায়। নিজেকেই নিজে প্রশ্ন করে, ‘ এ ভাবে আর কতদিন? মুক্তি কতদূরে? “
সেদিনের পর মধুকে একটু এড়িয়ে চলাই শুরু করে অলক। মধুই ফোন করতো। অলক অল্প কথা বলে ব্যস্ত থাকার অজুহাতে ফোন ছেড়ে দিত। এর মধ্যেই মেয়ে অরিনার বিয়ের ঠিক হল। অরিনারই পছন্দের পাত্র মনীশ। সকলেরই পছন্দ হয়েছিল অরিনার পছন্দকে। বিয়েটা তাই মহোৎসবই হয়ে উঠলো। নিমন্ত্রণের লিস্ট তৈরি করতে বসে আত্মীয় স্বজনের পাশাপশি বন্ধুদের লিস্টও তৈরি হল। অলক মধুর নামোচ্চারনও করলো না। রত্নাও নয়। অলকের মনে কাঁটার মত বিঁধতে লাগল ব্যাপারটা। কিন্তু সেধে অশান্তি টেনে আনতে ভয় পায় অলক।
(চলবে)
