নিজস্ব প্রতিবেদন
গত এক সপ্তাহে দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ২২ লক্ষ ছাড়িয়েছে। মারা গেছেন ৪৪ হাজারের বেশি। সুস্থ হয়েছেন ১৫ লক্ষ ৩৫ হাজারেরও বেশি। পশ্চিমবঙ্গে আক্রান্তের সংখ্যা ৯৮,৪৫৯, মারা গেছেন ২১০০। করোনার চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এখন হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনকেই সবচেয়ে বড়ো হাতিয়ার মনে করছেন যদিও একাধিক উন্নত দেশে এই ওষুধের ব্যবহার নিষিদ্ধ বা বন্ধ। ৮ আগস্ট রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর আয়োজিত এক আলোচনা চক্রের ওয়েব মঞ্চে করোনা রোগীর চিকিৎসায় এই ওষুধটির ব্যবহার নিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা মতামত দেন। তাদের মধ্যে ছিলেন স্কুল অব ট্রপিক্যাল মেডিসিনের শান্তনু ত্রিপাঠী, এসএসকেএম-এর অমলেন্দু ঘোষ, অ্যাপোলো হাসপাতালের শ্যামাশীষ বন্দ্যোপাধ্যায়, কার্ডিওলজি সোসাইটি অব ইন্ডিয়ার মৃণালকান্তি দাস প্রমুখ। ছিলেন মেডিসিনের প্রফেসর জ্যোতির্ময় পাল ও বিভূতি সাহা। এই আলোচনাচক্রে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ওষুধটি কম উপসর্গযুক্ত রোগীদের ক্ষেত্রে কার্যকরী ও নিরাপদ এবং সস্তা বলে ডাক্তারবাবুরা জানান। তাঁরা এও বলেন যে, এই ওষুধে রোগ প্রতিরোধ না হলেও রোগের মাত্র কমানোর একটা উপায়। এই প্রসঙ্গে এই ওষুধের ব্যবহারে আর্থারাইটিস রোগীরা করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে বলে যে ধারণা রয়েছে সেটাও ডাক্তারবাবুরা মানতে চাননি।
এদিকে করোনা আতঙ্কে রাজ্যে গ্রাম-গঞ্জ এলাকায় সচেতনতার অভাবে অস্বস্তিকর বেশ কিছু ঘটনার খবর এসেছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং-এর ইটখোলা পঞ্চায়েতের গোলাবাড়ি এলাকায় করোনায় মৃত্যু হয়েছে এই আতঙ্কে প্রায় ১৮ ঘণ্টা একটি মৃতদেহ পড়ে রইল। ৬১ বছর বয়সি ওই ব্যক্তির স্ত্রী জানান, জ্বার এবং শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন কিছুদিন। চিকিৎসাও চলছিল। নানারকম পরীক্ষা হয়। তাতে মৃত ব্যক্তি টাইফয়েড রোগী বলে জানা গিয়েছিল। তা সত্ত্বেও মারা যাওয়ার পর দেহ তুলতে গ্রামের কেউ এগিয়ে আসেনি, সৎকার করতে আসেনি। গ্রামবাসীদের বক্তব্য করোনা রোগের সমস্ত লক্ষণই রোগীর ছিল। তাই ভয়ে কেউ মৃতদেহ তুলতে বা সৎকার করতে এগোয়নি। এমনকি স্থানীয় শ্মশানেও দাহ করতে বাধা দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত ক্যানিং-১ এর বিডিও এবং ক্যানিং থানার আইসি ঘটনাস্থলে গিয়ে সরকারি দু-জন ডোমকে এনে দেহ সৎকারের ব্যবস্থা করেন।
