সুব্রত মুখোপাধ্যায় কংগ্রেসে থাকাকালীন কৌতূক মন্তব্য করেছিলেন, কংগ্রেস করলে ঝামেলা ফ্রি। কংগ্রেস দল সম্পর্কে এত বড়ো সত্যি কথা বোধহয় আর কেউ বলেননি। সম্প্রতি রাজস্থান কংগ্রেসের ঘরোয়া কোন্দল ইস্যুতে সেই সত্যিটা আরও স্পষ্ট। গেহেলট—পাইলট রণংদেহী অবস্থানের পর শেষ পর্যন্ত দেখা গেল ১০ আগস্ট শচীন পাইলট ফের কংগ্রেসেই ফিরলেন। প্রযত্নে কংগ্রেস হাইকমান্ড। দিল্লিতে পাইলটের সঙ্গে রাহুল গান্ধি তাঁর তুঘলক লেনের বাড়িতে বৈঠক করেন। সেখানে ছিলেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধি বঢ়রা। বৈঠক শেষে বেরিয়ে এসে পাইলট জানিয়ে দেন যে, তিনি কংগ্রেসেই ছিলেন এবং কংগ্রেসেই থাকছেন।
এ তো গেল সংবাদপত্র তথা বর্হিজগত সম্পর্কে পাইলটের বক্তব্য। কিন্তু রাজনৈতিক হিসেবটা একেবারেই আলাদা। যেটা শচীন পাইলট বুঝতে পেরেই আপাতত তেতো হাসি হেঁসে রাজস্থানের প্রবীণ কংগ্রেসি এবং তাদের নেতা গেহলটকে গিলতে বাধ্য হলেন। অর্থাৎ এই ঝামেলা আপাত ঠেকানো গেলেও অদূর ভব্যিষতে এই সংঘাত যে আবার মাথা চাড়া দেবে না তা নিশ্চিত করে বলা যাবে না। এবার পিছু হঠতে বাধ্য হলেও পাইলট আরও তৈরি হয়ে পরের বার আঘাত হানতেই পারেন। সেই সময় বিজেপি শিরের আশীর্বাদ যে তিনি পাবেন এটাও নিশ্চিত। কারণ, রাজনৈতিক স্বার্থে বিজেপিও চাইবে পাইলট-গেহেলট দ্বন্দ্বে জেরবার হয়ে রাজস্থান কংগ্রেসের সমাধি রচিত হোক, সরকারের পতন ঘটুক, বিজেপি আবার রাজস্থানের দন্ডমুণ্ডের কর্তা হয়ে ফিরে আসুক। তবে এখনই বিজেপির আশা পূর্ণ হল না।
গেহেলটের বিরুদ্ধে মাত্র ১৮ জন বিধায়ককে নিয়ে জেহাদ ঘোষণা করেছিলেন পাইলট। কিন্তু সময় গড়াতে দেখা গেল গেহলটকে ফেলতে মাত্র ১৮ জন বিধায়ক যথেষ্ট নয়। বিজেপির সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেও সেটা সম্ভব নয়। তার কারণ পাইলটের শিবিরের অনেক নবীন বিধায়ক বিজেপির সঙ্গে হাত মেলাতে রাজি ছিলেন না। ফলত কংগ্রেসের মধ্যে এবং বাইরে কার্যক সাঁড়াশি চাপে পড়ে যান পাইলট। তাঁর শিবির থেকে বেগতিকটা আন্দাজকরে তাই হাইকমান্ডের কাছে শান্তি প্রস্তাবও পাঠানো হয় বলে রাজধানী সূত্রের খবর। এই খবর পেয়ে গেহেলটের শিবির থেকেও হাইকমান্ডকে জানানো হয় যে বিশ্বাসঘাতকদের দলে ফেরত নেওয়া চলবে না। এমন দুই রণংদেহী শিবিরের উত্তেজনা মেটাতে নাকি সোনিয়া গান্ধিকেও হস্তক্ষেপ করতে হয়। পাইলটকে বুঝিয়ে ফেরত আনতে এবং নবীন-প্রবীণদের ঝগড়া মেটাতে প্রায় ৩ ঘণ্টা বৈঠক করেন রাহুল গান্ধি। সেই বৈঠকের শেষে সোনিয়া গান্ধি ফোন করেন গেহলটকে। ফোনে নাকি শচীনের যাবতীয় ক্ষোভ অভিমানের কথা গেহলটকে বলে একটা সমঝোতার রাস্তা খোলা হয়। আরও জানা গেছে রাজস্থান কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ-বিক্ষোভ সামাল দিতে একটি কমিটি গড়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। সেই প্রস্তাব গেহলট মেনে নেন। তবে রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে অশোক গেহলটকে সরাতে হবে বলে যে ধনুকভাঙাপণ করেছিলেন পাইলট, তা হাইকমান্ড মানেনি। এমনই এক সমঝোতাসূত্র নিশ্চিত হতে আপাতত রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রীর পদে অশোক গেহলটের থেকে যাওয়া নিশ্চিত হয়। বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করার ক্ষেত্রেও আর কোনো বাধা নেই। এরপরওে পাইলটের মনের ক্ষোভের আগুন কিন্তু ধিকধিকি জ্বলছে। গেহেলট যে সর্বসমক্ষে তাঁকে সুন্দর মুখ এবং মাথায় কুবুদ্ধির লোক বলেছেন, এই অপমানটা পাইলটের সহ্য করা মুশকিল। তাই আপাত শান্তি হলেও রাজস্থানের কংগ্রেস রাজনীতিতে যে কোনো সময়ে গভীর নিম্নচাপ দেখা দিতে পারে।
