হাসপাতালের বেড আকড়ে থাকছেন রোগীরা, সমস্যায় করোনা চিকিৎসা

সুপ্রিয় হালদার

ভাটপাড়ার ৭৫ বছর বয়সি জুটমিলের প্রাক্তন শ্রমিক সত্যকিংকর নাগ করোনায় আক্রান্ত হয়ে খুব অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাবার জন্য স্বাস্থ্য দফতরে হেল্প লাইন নম্বর ১০৭৫-এ বার বার ফোন করার পরেও কেউ ফোন ধরেনি। প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর ১৬ জুলাই দুপুরে বহু চেষ্টা করে তাঁর বাড়িতে যখন অ্যাম্বুলেন্স আনা হল তখন সব শেষ। প্রয়াত বৃদ্ধের ছেলে সুজিত নাগের অভিযোগ, হাসপাতালে বেড না থাকার জন্যই বাবার শেষ সময়ে চিকিৎসাটুকু হল না। ১৬ জুলাই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন যে, হাসপাতাল থেকে ডাক্তারবাবুরা যে সব রোগীকে চলে যেতে বলছেন তারা যাচ্ছে না। হাসপাতালের বেড আঁকড়ে পড়ে থাকলে এতো বিরাট সমস্যা। কোন রোগী সেরে গেলেও বাড়ি ফিরতে চাইছে না, তারও কিছু খবর মিলছে। ১) এলাকায় যে সব কোয়ারিন্টিন সেন্টার বা সেফ হোম তৈরির কথা তা গড়ে তুলতে আতঙ্কিত এলাকাবাসী অনেকেই বাধা দিচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই বলেছেন, এইভাবে যাদি স্বাস্থ্য পরিকাঠামো গড়তে না দেওয়া হয় তাহলে আক্রান্ত রোগীরা যাবেন কোথায়? ২) করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসায় এখন যেহেতু কোনো ওষুধ বা ভ্যাকসিন আসনি তাই তাদের ইমিউনিটি পাওয়ার বাড়াতে সরকারি হাসপাতালগুলোতে চেষ্টা হচ্ছে। তার জন্য রোগীদের খাদ্য তালিকায় মাথা পিছু প্রায় ৩২০ টাকা বরাদ্দ হচ্ছে। খাবারের তালিকায় থাকছে দুধ, ছানা, ৩-৪ রকম ফল, প্রায় ১০০ গ্রাম মাছ, ডাল, সবজি, মুরগির মাংস ইত্যাদি। হাসপাতালের এই খাবার ছেড়ে বহু রোগী বাড়ি ফিরতেই চাইছেন না। মুখ্যমন্ত্রী বলছেন, সরকার ভগবান নয়। সরকারেরও কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। এটা সবাইকে বুঝতে হবে। আমরা ভেবেছিলাম, কেন্দ্রীয় সরকার ১০০০ ভেন্টিলেটার, অক্সিজেন সিলিন্ডার, মাস্ক, পিপিই ইত্যাদি দিল্লি থেকে পাবো। কিন্তু এর কিছুই এলো না। তবে কলকাতা শহর রাজ্যজুড়ে করোনা নিয়ে যে গেল গেল রব উঠছে সেটা ঠিক না বলে জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। উল্লেখ্য ১৬ জুলাই যখন মুখ্যমন্ত্রী একথা বলছেন, ২৪ ঘণ্টা আগে রাজ্যের করোনা আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছে যায় ৩৪৪২৭। মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। গড়ে প্রাত্যহিক ১৫০০ জন আক্রান্ত হচ্ছে। এই হার চলতে থাকলে আসন্ন দুর্গোৎসবের দিনগুলোয় রাজ্যের করোনা রোগীদের সংখ্যা ১ লক্ষ ৬৮ হাজার ছাড়াবে বলে সমীক্ষা রিপোর্ট বলছে। মৃত্যু হতে পারে সারা দেশের প্রায় ২৪ লক্ষ মানুষের। এই সতর্কবার্তা মাথায় রেখেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি রাজ্যে আরও ৩৫০০টি করোনা বেড প্রস্তুত করতে বলেছেন। বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেও করোনা রোগীর বেড বাড়াতে নির্দেশ দিয়েছেন।

Leave a comment