সুপ্রিয় হালদার
এ্যহ স্পর্শ। করোনা অতিমারি এবং আমফানের দৌরাত্ম্যে আয়ের উৎস শুকিয়ে কাঠ হওয়ার মুখে রে রে করে বিশাল অঙ্কের বিদ্যুৎ বিল বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিয়ে কলকাতা-সহ রাজ্যের বিরাট সংখ্যক মানুষের গলায় ফাঁস পড়াতে উদ্যোগী কলকাতা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কর্পোরেশন। সাম্প্রতিক যে বিদ্যুৎ বিল তারা বাড়ি বাড়ি পৌঁছেছে তাতে দেখা যাচ্ছে যে গৃহস্থ মাসে মাত্র ২০০, ৩০০, ৪০০ টাকা বিল দিত তাদের বিল এসেছে কারওর ৫,০০০, কারওর ৬,০০০ কারওর আরও বেশি। লকডাউনের জেরে দীর্ঘদিন ঘরবন্দি মানুষ এমন চড়া বিদ্যুৎ বিল দেখে হতচকিত, ক্ষুব্ধ। খোদ বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতেও বিরাট অঙ্কের বিল পাঠিয়ে বসে আছে সিইএসসি। শোভনদেববাবু বলেছেন এই বিরাট অঙ্কের বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্য তীব্র ক্ষোভ এবং প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই তার বাড়িতে এসে এই বিষয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন। করোনা-আমফানের পর এমন অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের ধাক্কায় মানুষ নাজেহাল। সিইএসসি-কে বলা হয়েছে কেন এত টাকার বেশি বিল পাঠানো হল সেটার ব্যাখ্যা দিয়ে সংবাদপত্রগুলিতে বিজ্ঞাপন দিতে হবে। সিইএসসি-এর পক্ষে জানানো হয়েছে যে বর্ধিত বিদ্যুৎ বিল এক বারে দিতে না পারলে তিনটি কিস্তিতে তা দেওয়া যাবে। তাতে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের ক্ষোভের আগুনে ঘি পড়েছে। অনেকেই বলছেন, তিন কিস্তিতে টাকা দেওয়া মানে টাকা তো সেই গ্রাহকদের পকেট থেকে যাবে। যেখানে বর্ধিত বিদ্যুৎ বিল নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে, সেখানে কিস্তির কথা আসছে কি করে?
তারা বলছেন বামফ্রন্ট আমল থেকেই এক অবাঙালি ব্যবসাদারের হাতে সিইএসসি-তে তুলে দিয়ে লুটেপুটে খাবার বন্দোবস্ত করে দেওয়া হয়েছে। এরা কলকাতা-সহ বাংলার মানুষকে নানা ভাবে শোষণ করার কায়দাকানুন চালানো শুরু করে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের আশীর্বাদে। শাসক বদলালেও সেই ট্রাডিশন সমানে চলছে। বিদ্যুৎ গ্রাহকদের সংগঠন অ্যাবেকার সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ চৌধুরী জানিয়েছেন, গ্রাহকদের স্লাব বেনিফিট দিতে হবে। তাঁর বক্তব্য লকডাউনের সময় নিয়মিত বিদ্যুতের মিটার রিডিং না নিয়ে পরে তা একসঙ্গে নেওয়া হয়েছে। তাতে নিচু স্ল্যাবের গ্রাহকদের উঁচু স্ল্যাবে ফেলে দিয়ে বিদ্যুৎ বিলের যথেচ্ছাচার হয়েছে। যদিও সিইএসসি এই অভিযোগ মানতে নারাজ। কিন্তু গ্রাহকদের বক্তব্য গত এপ্রিল ও মে— যখন করোনা এবং আমফানে মানুষ বিপর্যস্ত সেই সময়ের বিদ্যুৎ বিল অমানবিক তথা কূট বাণিজ্যিক স্বার্থে বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। যাদের ইলেকট্রিসিটি ডিউটি দেবার কথাই না তাদের থেকে ডিউটি আদায় করার চেষ্টা হয়েছে। কৌশলে নিচু স্ল্যাবের গ্রাহকদের উঁচু স্ল্যাবে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এই সবই চরম জনবিরোধী কর্মকাণ্ড। এখন মানুষের ক্ষোভ আড়াল করতে কিস্তির কথা বলে সিইএসসি তাদের এই অনৈতিক কাজ আড়াল করার চেষ্টা করছে। ১৬ জুলাই ২০২০ ধর্মতলায় সিইএসসি-র সদর দফতর ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে দাঁড়িয়ে শ্যামবাজারের বাসিন্দা এক বৃদ্ধকে চিৎকার করে বলতে শোনা গেল, এরা সাদা পথে ডাকাতি করতে চাইছে। বামফ্রন্ট আমলে ইউনিভার্সিটিতে একটি চেয়ার উপহার দিয়ে এর বাঙালিপ্রেমী বলে এরা বঙ্গজীবনে ঢুকে পড়ে। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বিদেশ সফরেও এদের কর্তাব্যক্তিদের আনাগোনা দেখা গেছে। এসবই হল কেমোফ্লাজ, আসলে সরকারে যেই থাকুক, তাকে শিখণ্ডি করে লুটেপুটে খাওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।
