আমার ভালোবাসার ইতিকথা

পর্ব ১
সময়টা বসন্তকাল। উত্তুরে হাওয়ার তীক্ষ্ণতা কিঞ্চিৎ কমেছে। তবু সকালবেলায় কম্বলের ওমের স্পর্শ ছেড়ে রোজনায় গা-ঝাড়া দিতে অনেকটাই গড়িমসি লাগে। শীতটা এবার যাই যাই করেও যাচ্ছে না। জানলার বাইরে জামরুল গাছটায় বসে কোকিলটা কি আর এতো কিছু বোঝে! সে তার মতো ডেকেই চলে সময়ের নিয়ম মেনে। কি যাদু আছে কে জানে ঐ ডাকটায়! মনটা বারবার উদাস হয়ে যায়।
নাহ, মনকে বাঁধতে হবে। আবারও খুব শক্ত করে বাঁধতে হবে। আর না, বড্ড বিপথগামী হয়ে পড়েছে সে। অবাধ্যতায় বারবার ছুটে যায় নিষিদ্ধ আকর্ষণে। বার বার ভুল করে কেঁদে মরে। ভুলের মাসুল দিতে হয় বারবার। বহুবার।
কিন্তু এই ভুলগুলোয় কোথাতেও কোনো ভুল ছিলো না। অন্ততঃ এদিক থেকে তো দেখলে কোনওভাবেই কোনো ভুল নয়। কিন্তু ঐ যে পক্ষপাতদুষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি, সে যে বিচার করে বড্ডো একপেশে, স্বার্থ বুঝে। প্রথমে আগুন্তক হয়ে সে উপস্থিত হয়, তারপর ছলেবলে কৌশলে ভেঙে দেয় আড়ষ্টতা, যুক্তি, নিয়মনীতি। ছিঁড়ে দেয় পূর্বের ভুল শুধরে নেওয়া শক্ত বাঁধনকে।
প্রমাণিত হয় আবারও হয় মানসিক দৃঢ়তার অভাব নয়তো বা কোথাও ব্যাভিচারের লক্ষণ।
কে কোন যুক্তিতে সাজাবে তা সম্পূর্ণ নির্ভর করবে তার দৃষ্টিভঙ্গির ওপর। কিন্তু ভুলটা আবারও এইভাবেই হয়। সঠিকভাবে চিনে নেওয়ার ভুল, নিজের মতো মানসিকতার একজনকে খুঁজে পেতে চাওয়ার ভুল, ছোট ছোট সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম অনুভূতির চাহিদার ভুল। যে ভুলগুলো গোপনে করতে ইচ্ছে করে। যে ভুলগুলো করায় কোনো ভুল নেই।
তোমার সাথে একটা ভুল করতে চাই
যে ভুলটা গোপনে করতে ইচ্ছে করে
যদি তাকে গোপন করে রাখতে পারো-
তবে আমিও থাকতে পারি,
তা না হলে একরাশ অভিমানে তোমার
সাথে আড়ি আড়ি আড়ি।
এক ফালি ঈদের চাঁদের মতো উন্মুক্ত আর বাকিটা গোপনে থাকা যা কিছু সব
থাক না অবগুণ্ঠনের আড়ালে যতটুকু- সম্ভব।
তোমার নীতি জানতে চাইনে,
বুঝিনে তোমার যুক্তি।
বুঝি শুধু, তুমি আমার খোলা আকাশ;
ডানা হীন ভুলে উড়তে চাওয়ার মুক্তি।
এখন তুমি যদি চাও ভুলের মাসুল,
হার মানবো না বরং চিৎকার করে বলবো-
বেশ করেছি, আবারো করবো ভুল।

পর্ব-২
চারপাশটা এখনও সবুজ সবুজই আছে। কংক্রিটের জঙ্গল ও আছে। তবু তার ফাঁকফোকর দিয়ে আম, জাম, কাঁঠাল, পেয়ারা, দেবদারু এমনকি সামনের টিনের চালের বাড়ির ছাদে একটা আঙুরলতাও বেশ লতিয়ে উঠেছে। গোটা তিনেক কাঠবিড়ালি সারাদিন এদিক সেদিক ছুটে বেড়ায়, চড়াই আর শালিক একঝলকের সাক্ষাৎ দিয়েই পালায়। একঝাঁক টিয়া আসে রোজ মেইন গেটের ধারের কৃষ্ণচূড়া গাছটায়। দুপুর হলেই হনুমান স্বপরিবারে এসে দাপাদাপি করে বেড়ায়। একবার সামনের বাড়ির জলের ট্যাঙ্কের সব পাইপগুলোকে ভেঙে দিলো বসে বসে। জানলা দিয়ে সেসব কীর্তি কলাপ হাঁ করে দেখা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিলো না। কে বলবে এটা কলকাতা-২।
বসন্তের এমন প্রাণোচ্ছ্বল দুপুর তবুও যেন নিরিবিলি মনে হয়। কেমন যেন বিষন্নতা ছেয়ে থাকে। সেই গোপনে করার ভুলগুলোর ইচ্ছেগুলো তীব্র ভাবে পেয়ে বসে। বেয়াড়া কোকিলটাও একনাগাড়ে ডাকতেই থাকে। ওর ঐ কুহু কুহু শিসে মনে হয় কানের ভেতর গরম সীসে ঢুকছে।অন্তর জ্বলে যায়, গা জ্বলে যায়। ওর নাকি এটাই ডাকার সময়, এই সময় ঐ ডাকটাই নাকি নিয়ম। কিসের সময়? কিসের নিয়ম? কোনো নির্দিষ্ট সময় বা নিয়ম বলে আদপেও কিছু আছে নাকি? এদিকের সময় ওদিকের অসময় আবার এদিকের নিয়ম ওদিকের অনিয়ম। তাই গোটা গোটা অক্ষরে ফোনালাপে বার্তা আসে, ‘তোমার যুক্তি তোমার কাছে আর আমার কাছে আমার।’ তাহলে আর নির্দিষ্ট নিয়ম বা সময় বলে কিছু রইলো কি?
না বাপু, কোকিলটার ও বোঝা উচিত যে এবছর শীত যখন যাই যাই করেও যাচ্ছে না তখন ওর চুপ করে গাছের ডালে বসে থাকাই উচিৎ। ও বাবা! আবার উচিৎ অনুচিত এর ক্ষেত্রে ও কোনো বিধান নেই যে। তবে কি হবে? কি আর হবে- হবে কচুপোড়া। কারণ, এদিক-ওদিক কোনোদিকেরই কম্পাস নির্ধারিত সঠিক দিক নেই। তাই মুখোমুখি হওয়ার সুযোগটাও নেই। এদিক যদি উত্তর-পূর্ব হয় তো ওদিক দক্ষিণ-পশ্চিম। তবে দুদিকেই একটি করে খোলা বারান্দা আছে যেখানে দুদন্ড হাঁফ ছাড়ার অবসর ও আছে। কিন্তু সময়ের আর নিয়মের বৈপরীত্যে অবসর মেলে না। কারণ, উত্তরপূর্বের ভোরের আলো দক্ষিণ-পশ্চিমে গড়িয়ে পড়ে বিকেলে, উত্তরপূর্বের শৈত্যের তীক্ষ্ণ বাতাস বয়ে যায় দক্ষিণ-পশ্চিমের গ্ৰীষ্মকালীন মিঠেল হাওয়া হয়ে। শুধু রাত হয় একসাথে, চাঁদ ওঠে একসাথে। কিন্তু একসাথেই দুপ্রান্তে চোখজুড়ে ঘুম পায় অপেক্ষার ক্লান্তিতে। প্রথমরাতের সঙ্গযাপনের লোভ এড়িয়ে অবসন্নতার বদভ্যাসে ঘুম পায়। গভীর ঘুম।
মাঝরাতে চকিত নিদ্রাভঙ্গ
চমকে আধো চোখে
রেখেছি পাশে হাত
চেয়েছি সে মুহূর্তের সঙ্গে।
ছিলে না তুমি সেথা
নিঃসঙ্গ বিছানায়
একাকী নীরবতা,
হয়তো ভুল ছিল,
হয়তো খামতি ছিল আমারো,
হয়তো যে আগুন জ্বলে ওঠবার ছিল-
তা জ্বলেনি
হয়তো বলাই হল না সব কথা।
প্রথমরাতে চেয়েছ আমার সঙ্গ
অবসন্নতা আমার বদভ্যাস
তাই রাত্রি যাপনে তোমার মোহভঙ্গ।

পর্ব – ৩
সামনে এক চিলতে সবুজ জমি। ঐটুকুকেই আদিখ্যেতায় মাঠ বলে আত্মতৃপ্তির ঢেঁকুর ওঠে। আরে বাবা, নেই মামার চেয়ে কানা মামা ও তো ভালো। ওতেই বিকেলের পড়ন্ত রোদ্দুরে খেলাধুলার ধুম লেগে যায়। ছুটির দিন গুলোতে আবার দুবেলাই ক্রিকেট, ফুটবল, ব্যাডমিন্টন কোনটা খেলা হবে আর কোনটা হবেনা তাই নিয়ে পাল্লা দিয়ে চলে চোট্টামি, ঝগড়া, রাগ, মান- অভিমান। সময় বয়ে যায় তবু ঠিক হয়ে ওঠেনা সেদিন কোনটা হবে। কোলাহলে মুখর ঐটুকু সবুজ জমির তখন মূল্যই আলাদা। পাড়ার আট-দশটা কুকুর ও জুটে যায় তখন। সে এক মজার আর উপভোগ্য দৃশ্য। কিন্তু সন্ধে ঘনালেই ঘরে ফেরার পালা। সবুজ জমিটাও আস্তে আস্তে সমস্ত কোলাহল ভুলে কেমন শান্ত হয়ে যায়। রাস্তার হ্যালোজেনের আলোয় সবুজ রঙটা কেমন কালচে ধূসর রঙের লাগে। একাকী শূন্য ঐ টুকরো জমিটার প্রতি সেই মুহূর্তে মোহভঙ্গ হয়। তবু মায়া থেকে যায়, অপেক্ষা থেকে যায়, টান থেকে যায়। আবারও ফেরার টান। আরো একবার-বারবার ফিরে আসার টান। ঐ একটুকরো সবুজ জমিটাকে ভাগ করে নিয়ে খেলার আনন্দে জোট বাঁধার টান। ঐ টানটুকুই যে সব। সবটুকু জুড়ে আছে— কে কার প্রতি কতোখানি আছে টান। এই টানটাই হয়তো আকর্ষণ। হয়তো বা নিষিদ্ধ আকর্ষণ, যার ফলস্বরূপ গোপন ভুল গুলো করতে ইচ্ছে করে। আপাতদৃষ্টিতে এই গোপনীয়তাকে কৌতুহলী দৃষ্টিভঙ্গিতে খুব একটা সুখকর ভাবে দৃষ্টি গোচর করা হয়না।আর তখনি উত্তর-পূর্ব আর দক্ষিণ-পশ্চিমের খোলা বারান্দার দরজায় বজ্রআঁটুনিতে অনিচ্ছায় খিল তোলা হয়। ইচ্ছে ডানার পালক ঝরে ঝরে সারা বারান্দা ভর্তি হয়ে যায়। উড়তে না পারার অনভ্যাসে ডানা ভারী হয়ে আসে। শিথিল হয়ে পড়ে উদগ্রতা। রোজনামচার ভারসাম্য বজায় রাখতে সমঝোতায় আসতে হয়। তবুও এযে চুম্বকের টান। এ এক অমোঘ আকর্ষণ। প্রকৃতির বুনিয়াদ এই আকর্ষণ। মাধ্যাকর্ষণ। উপেক্ষা করা যায় কি? যায় না।
তাই রাগে অভিমানে দূরে চলে গিয়ে ও ফিরে আসতেই হয় ভালোবাসার টানে।
ভালোবাসা মানে একরাশ অভিযোগ
ভালোবাসা মানে একগোছা অভিমান
ভালোবাসা মানে ঝগড়া করার পরে
কে কার প্রতি কতোখানি আছে টান।

পর্ব – ৪
সন্ধ্যে নামে। মেইন গেটের সামনে চায়ের দোকানে খদ্দের এসে জোটে। সন্ধ্যে নামলেই জনকোলাহল শুরু হয়ে যায়।তখনি যেন ঠিকঠাকভাবে কোলকাতা ২ বলে মনে হয়। কারন, সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চড়াই, শালিখ, কাঠঠোকরা,টিয়া, কাঠবিড়ালি, হনুমান, আর চারদিকে ছড়িয়ে থাকা নানান আম জাম কাঁঠাল পেয়ারা জামরুল দেবদারু করবী আর কৃষ্ণচূড়ার সমারোহে মনেহয় যেন
কোনো পাড়া-গাঁ। আর সন্ধে নামলেই পুরো পাল্টে যায় দৃশ্যপট। জানলার বাইরে হ্যালোজেন আলোর তীব্রতায় তখন আর কিছুই দেখা যায় না। ওরাও সবাই বিকেল গড়াতেই কেমন যেন জাদু কাঠির ছোঁয়ায় ভ্যানিশ হয়ে যায়।
ঘরের ভেতর বৈদ্যুতিক আলোয় স্থবির আসবাবপত্রের একঘেয়ে নীরব উপস্থিতি ছাড়া কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। চারদিকে ওতো জনকোলাহলেও কেমন যেন নিস্তব্ধ, নিস্তরঙ্গ মনে হয়। কানের মধ্যে সারাদিনের ঐ অবাধ্য কোকিলের ডাক অনুরণন হয়ে ফেরে। কবিতার খাতা খুলে আনমনে বসে তখন ছন্দ আর আবেগকে মেলানোর তাগিদ চলে। একমাত্র ঐ কবিতাই যেন সেই মুহূর্তের বিষন্নতা দূর করার উপায়, সকল অনুভুতির একমাত্র প্রকাশ। ভেতরের যতো চাওয়া, পাওয়া, ব্যাথা, যন্ত্রণা, উচ্ছ্বাস, আনন্দ সব জমে থাকে হৃদয়ের নানান প্রকোষ্ঠে। ঐ ছোট্ট সবুজ জমিটায় খেলার টানে যেমন বিকেল হলেই যে যার ঘর থেকে বেড়িয়ে এসে জোটে বাঁধে এও তেমনি, হৃদয়ের সকল প্রকোষ্ঠ থেকে অনুভুতিরা বেড়িয়ে আবেগের জমিনে এসে জড়ো হয়। বারবার মনের আর কানের ভেতর হতে থাকে ঐ অবাধ্য পাজি কালো পাখিটার মিঠেল সুরেলা শিসের অনুরণন। এক অমোঘ আকর্ষণে বারবার শুনতে চাওয়ার তীব্র বাসনা পেয়ে বসে। অপেক্ষারা প্রহর গোনে ।
অতি সাবধানে দরজার খিল খুলে বারান্দায় এসে দাঁড়িয়ে মনে হয়- এই তো সেই সময়! দুটো বারান্দায় একসাথে সন্ধ্যে নেমেছে। ঐ বারান্দাতেও অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে আরেক তীব্র বাসনা।
সন্ধ্যে ক্রমশই রাতের পথে এগোয়। একসময় ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা অপেক্ষায় অবসন্নতা নেমে আসে। ঘুম পায়, গভীর ঘুম। তবু বারান্দা থেকে ঘরে ফেরার শেষমুহূর্তে রাতের আকাশের দিকে তাকিয়ে প্রতিরাতের মতোই ঐদিকের বারান্দার উদ্দেশ্যে একটি সীমাহীন অপেক্ষায় থাকা হৃদয় মনে মনে চিৎকার করে বলে ওঠে, ‘আমি তোমার প্রেমিকা, আদ্যোপান্ত তোমারি প্রেমিকা।’
আমি আদ্যোপান্ত একজন প্রেমিকা, ভেতরে-বাইরে, শরীরে- মনে, ভাবনায়, অনুভুতিতে, ইথারিও স্বত্তায়, নিদ্রায়, জাগরণে, শব্দে- নিঃশব্দে, বাস্তবে, কল্পনায়, অনুতে, পরমাণুতে, জন্মে, মৃত্যুতে আমি এক আদ্যোপান্ত প্রেমিকা।
হয়তো আমি বিবাহিত বা অবিবাহিত,
হয়তো কারোর মেয়ে, বোন, স্ত্রী, মা-
আরো অনেক বহিঃ পরিচয়।
কিন্তু আমার ইথারিও স্বত্তায় শুধুই প্রেমিকা।
প্রেম আমার গন্ধে, রন্ধ্রে, বিশ্বাসে, নিঃশ্বাসে,
প্রেম আমার স্বাদে- আহ্লাদে।
প্রেম আমার আনন্দে, ক্রন্দনে, ব্যাথায়, যন্ত্রনায়, আমার সোহাগে, বিরহে ।
আমার সকল চেতনায়,
শিরা উপশিরায়।
যতোবার আমি তোমাকে দেখেছি ততোবার আমি গভীরভাবে প্রেমে পড়েছি।
প্রেম আমার শব্দভাণ্ডার কে স্ফিত করেছে, মস্তিষ্কের সকল ধমনীতে ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রেম আমাকে উজ্জীবিত করেছে, আগুনের স্ফুলিঙ্গ করেছে।
প্রেমে আমি জিততে শিখেছি, হার মানতে শিখেছি, নত হতে শিখেছি, উন্মুক্ত হতে শিখেছি।
বারে বারে তাই কাগজে কলমে লিখেছি
আমি প্রেমিকা-আমি আদ্যোপান্ত প্রেমিকা।
যখনই তুমি আমার সামনে এসেছো-
তোমার অস্তিত্ব কে স্বীকার করেছি প্রেমের জন্য।
তুমি হয়তো আমার প্রেমিক নও
হয়তো তোমার প্রেম অন্য কোথাও।
দিগন্ত বিস্তৃত মরুভূমির মতো নির্জলা প্রাপ্তি আমার প্রেমের স্বীকৃতি।
প্রশান্ত মহাসাগরের গহীন গভীরে এককণা বালুর মতো হয়তো আমার প্রেমের অস্তিত্ব।
সীমাহীন নীলিমায় নীলাকাশে উড়ন্ত ফড়িং এর মতোই হয়তো আমার প্রেমের অবস্থান।
তবু আমি প্রেমিকা, আদ্যোপান্ত শুধুই একজন প্রেমিকা।
প্রেমিকা হয়েছি নারীত্বের গঠনে-
স্নেহে, মমতায়, উচ্ছ্বাসে, শীৎকারে, গাঢ়ত্বে।
ভালোলাগায়, ভালোবাসায় আমার সবখানে প্রেম প্রস্ফুটিত।
সৃষ্টির আদিকাল থেকে আমার প্রথম পরিচয়- আমি প্রেমিকা, আমি ইভ ।
তুমি আমার প্রেমিক, আমার সেই আদিকালের আদম।
তোমার ঔরসে আমি মাতৃত্বের স্বাদ গ্রহণ করছি, তারপর একেএকে এক-একটা পরিচয়ের অলংকারে সজ্জিত হয়েছি।
তোমার মৈথুনের আবেশে আবিষ্ট হয়েছে আমার প্রেমজ স্বত্তা।
আমাকে পূর্ণতার আনন্দে আনন্দিত করেছ বারবার।
আমাকে বার বার ভেঙেছো, গড়েছো,
আর আমিও তোমার চাহিদায় ভেঙেছি গড়েছি প্রেমের জন্য।
সারা বিশ্বচরাচরের সকল সৃষ্টি দাঁড়িয়ে আছে আমার ঐ প্রেমের জন্য।
তবু আমাকে কলঙ্কিত করো?
তবু আমাকে ব্যর্থ করো? মারো ধরো?
আমাকে আবার মাতৃরূপে পূজো করো!!!
কিন্তু আমি তো শুধুই প্রেমিকার মতো পূজিত হতে চাই।

Leave a comment